ঢাকা ০২:৪৪ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৩ জুন ২০২৬, ৮ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষ:
৪ মাত্রার ভূমিকম্পে কাঁপল ঢাকা ও আশপাশের এলাকা আওয়ামী লীগের কর্মকাণ্ডের প্রতিবাদে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের বিক্ষোভ মিছিল পেনাল্টি মিস করেও ইতিহাস গড়লেন মেসি চোরাই পথে সার পাচারকালে আটক, মোবাইল কোর্টে ব্যবসায়ীকে ২০ হাজার টাকা জরিমানা উত্তরপ্রদেশের লখনউয়ের কোচিং সেন্টারে আগুন, ঝলসে মৃত্যু অন্তত ১৫ জনের  বকেয়া বিদ্যুৎবিল পরিশোধের পর চালু হলো বেলগাছি ইউনিয়ন পরিষদের কার্যক্রম ছাত্রলীগের ‘উসকানিমূলক কর্মকাণ্ডের’ প্রতিবাদে নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রদলের বিক্ষোভ মিছিল চুয়াডাঙ্গায় বিশেষ অভিযানে নিষিদ্ধ সংগঠনের ৭ নেতাকর্মী গ্রেফতার কুলাউড়ায় যানজট, মাদক ও অপরাধ দমনে নেওয়া হলো কঠোর সিদ্ধান্ত তাড়াশে কোচিং সেন্টারের আড়ালে শিক্ষকের বিরুদ্ধে ছাত্রীকে যৌন-নিপিড়নের অভিযোগ

চার বছরের প্রতীকী প্রতিবাদের অবসান, আলমডাঙ্গা সরকারি কলেজে স্বস্তি ফিরল ইংরেজি বিভাগে

বশিরুল আলম, সিনিয়র স্টাফ রিপোর্টার, চুয়াডাঙ্গাঃ
  • আপডেট সময় : ১০:১৯:৩৫ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৫ মে ২০২৬ ৯৩ বার পড়া হয়েছে
আজকের জার্নাল অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

আলমডাঙ্গা সরকারি কলেজে দীর্ঘদিনের একটি নীরব প্রতিবাদের অবসান ঘটেছে বর্তমান অধ্যক্ষের হস্তক্ষেপে। মাত্র একটি ফ্যানের অভাবকে কেন্দ্র করে চার বছর ধরে বিভাগীয় কক্ষে না বসে শিক্ষক কমনরুমে দাপ্তরিক কার্যক্রম পরিচালনা করে আসা ইংরেজি বিভাগের প্রভাষক মো. আমিরুল ইসলাম জয় অবশেষে নিজ বিভাগের কক্ষে ফিরছেন— এমন খবরেই কলেজজুড়ে আলোচনা সৃষ্টি হয়েছে।

কলেজ সূত্রে জানা যায়, ২০২২ সালে কলেজে বৈষম্য, অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ তুলে শিক্ষক, কর্মকর্তা-কর্মচারী ও শিক্ষার্থীদের নিয়ে আন্দোলনে সক্রিয় ভূমিকা পালন করেন ইংরেজি বিভাগের প্রভাষক মো. আমিরুল ইসলাম জয়। সে সময় কলেজের অভ্যন্তরীণ নানা সংকট ও টানাপোড়েনের মধ্য দিয়ে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। আন্দোলনের জেরে তৎকালীন ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ গোলাম ছরোয়ার মিঠুর অপসারণও ঘটে। আন্দোলনের সময় মানসিক চাপ ও উদ্বেগের কারণে গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন প্রভাষক জয়। পরে তিনি স্ট্রোকে আক্রান্ত হলে তাকে ঢাকার জাতীয় নিউরোসায়েন্স হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে জটিল অস্ত্রোপচারের পর দীর্ঘ প্রায় তিন মাস চিকিৎসাধীন থাকার পর তিনি আবার কর্মস্থলে ফিরে আসেন।

আরও পড়ুন, https://www.dailyamaderpatrika.com/2026/05/24/প্রাকৃতিক-দুর্যোগে-ক্ষতি/

ফিরে এসে তিনি দেখেন, কলেজের বিভিন্ন বিভাগে ফ্যান বা শীতাতপ নিয়ন্ত্রণের ব্যবস্থা থাকলেও তার বিভাগীয় কক্ষে কোনো ফ্যান নেই। অভিযোগ রয়েছে, দীর্ঘ সময় ধরেও এ বিষয়ে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। এর প্রতিবাদে তিনি নিজের বিভাগীয় কক্ষে না বসে শিক্ষক কমনরুম থেকেই নিয়মিত ক্লাস ও প্রশাসনিক কার্যক্রম পরিচালনা করতে থাকেন। ধীরে ধীরে এই ঘটনাটি কলেজে “আয়না ঘর” নামে পরিচিতি পায়, যা অনেকের কাছে বৈষম্য ও অবহেলার প্রতীক হয়ে ওঠে।
সম্প্রতি কলেজের বর্তমান অধ্যক্ষ ড. মফিজুর রহমান বিষয়টি জানতে পেরে দ্রুত ব্যবস্থা নেন। ইংরেজি বিভাগের কক্ষে ফ্যান স্থাপনের উদ্যোগ গ্রহণ করা হলে দীর্ঘ চার বছরের সেই প্রতীকী প্রতিবাদেরও অবসান ঘটে।

আরও পড়ুৃন, https://www.dailyamaderpatrika.com/2026/05/24/শিশু-রামিসাসহ-দেশজুড়ে-শ/

এ বিষয়ে ইংরেজি বিভাগের প্রভাষক মো. আমিরুল ইসলাম জয় বলেন, “এখন আর কোনো অভিযোগ নেই, আছে কেবল কৃতজ্ঞতা। বর্তমান অধ্যক্ষ স্যার মানবিক দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে সমস্যার সমাধান করেছেন। আলমডাঙ্গা সরকারি কলেজের ‘আয়না ঘর’ নামে পরিচিত অস্বস্তিকর পরিস্থিতির অবসান হওয়ায় আমি আনন্দিত।” কলেজ সংশ্লিষ্টদের মতে, ছোট একটি অব্যবস্থাপনাও কখনও কখনও বড় প্রতীকে রূপ নেয়। আর সময়মতো আন্তরিক উদ্যোগ নিলে সেই সংকটের সমাধানও সম্ভব। বর্তমান অধ্যক্ষের এ পদক্ষেপে শিক্ষক-কর্মচারীদের মাঝেও ইতিবাচক বার্তা পৌঁছেছে বলে মনে করছেন অনেকে।

নিউজটি শেয়ার করুন

চার বছরের প্রতীকী প্রতিবাদের অবসান, আলমডাঙ্গা সরকারি কলেজে স্বস্তি ফিরল ইংরেজি বিভাগে

আপডেট সময় : ১০:১৯:৩৫ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৫ মে ২০২৬

আলমডাঙ্গা সরকারি কলেজে দীর্ঘদিনের একটি নীরব প্রতিবাদের অবসান ঘটেছে বর্তমান অধ্যক্ষের হস্তক্ষেপে। মাত্র একটি ফ্যানের অভাবকে কেন্দ্র করে চার বছর ধরে বিভাগীয় কক্ষে না বসে শিক্ষক কমনরুমে দাপ্তরিক কার্যক্রম পরিচালনা করে আসা ইংরেজি বিভাগের প্রভাষক মো. আমিরুল ইসলাম জয় অবশেষে নিজ বিভাগের কক্ষে ফিরছেন— এমন খবরেই কলেজজুড়ে আলোচনা সৃষ্টি হয়েছে।

কলেজ সূত্রে জানা যায়, ২০২২ সালে কলেজে বৈষম্য, অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ তুলে শিক্ষক, কর্মকর্তা-কর্মচারী ও শিক্ষার্থীদের নিয়ে আন্দোলনে সক্রিয় ভূমিকা পালন করেন ইংরেজি বিভাগের প্রভাষক মো. আমিরুল ইসলাম জয়। সে সময় কলেজের অভ্যন্তরীণ নানা সংকট ও টানাপোড়েনের মধ্য দিয়ে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। আন্দোলনের জেরে তৎকালীন ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ গোলাম ছরোয়ার মিঠুর অপসারণও ঘটে। আন্দোলনের সময় মানসিক চাপ ও উদ্বেগের কারণে গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন প্রভাষক জয়। পরে তিনি স্ট্রোকে আক্রান্ত হলে তাকে ঢাকার জাতীয় নিউরোসায়েন্স হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে জটিল অস্ত্রোপচারের পর দীর্ঘ প্রায় তিন মাস চিকিৎসাধীন থাকার পর তিনি আবার কর্মস্থলে ফিরে আসেন।

আরও পড়ুন, https://www.dailyamaderpatrika.com/2026/05/24/প্রাকৃতিক-দুর্যোগে-ক্ষতি/

ফিরে এসে তিনি দেখেন, কলেজের বিভিন্ন বিভাগে ফ্যান বা শীতাতপ নিয়ন্ত্রণের ব্যবস্থা থাকলেও তার বিভাগীয় কক্ষে কোনো ফ্যান নেই। অভিযোগ রয়েছে, দীর্ঘ সময় ধরেও এ বিষয়ে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। এর প্রতিবাদে তিনি নিজের বিভাগীয় কক্ষে না বসে শিক্ষক কমনরুম থেকেই নিয়মিত ক্লাস ও প্রশাসনিক কার্যক্রম পরিচালনা করতে থাকেন। ধীরে ধীরে এই ঘটনাটি কলেজে “আয়না ঘর” নামে পরিচিতি পায়, যা অনেকের কাছে বৈষম্য ও অবহেলার প্রতীক হয়ে ওঠে।
সম্প্রতি কলেজের বর্তমান অধ্যক্ষ ড. মফিজুর রহমান বিষয়টি জানতে পেরে দ্রুত ব্যবস্থা নেন। ইংরেজি বিভাগের কক্ষে ফ্যান স্থাপনের উদ্যোগ গ্রহণ করা হলে দীর্ঘ চার বছরের সেই প্রতীকী প্রতিবাদেরও অবসান ঘটে।

আরও পড়ুৃন, https://www.dailyamaderpatrika.com/2026/05/24/শিশু-রামিসাসহ-দেশজুড়ে-শ/

এ বিষয়ে ইংরেজি বিভাগের প্রভাষক মো. আমিরুল ইসলাম জয় বলেন, “এখন আর কোনো অভিযোগ নেই, আছে কেবল কৃতজ্ঞতা। বর্তমান অধ্যক্ষ স্যার মানবিক দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে সমস্যার সমাধান করেছেন। আলমডাঙ্গা সরকারি কলেজের ‘আয়না ঘর’ নামে পরিচিত অস্বস্তিকর পরিস্থিতির অবসান হওয়ায় আমি আনন্দিত।” কলেজ সংশ্লিষ্টদের মতে, ছোট একটি অব্যবস্থাপনাও কখনও কখনও বড় প্রতীকে রূপ নেয়। আর সময়মতো আন্তরিক উদ্যোগ নিলে সেই সংকটের সমাধানও সম্ভব। বর্তমান অধ্যক্ষের এ পদক্ষেপে শিক্ষক-কর্মচারীদের মাঝেও ইতিবাচক বার্তা পৌঁছেছে বলে মনে করছেন অনেকে।