ঢাকা ০৩:০৫ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৩ জুন ২০২৬, ৮ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষ:
৪ মাত্রার ভূমিকম্পে কাঁপল ঢাকা ও আশপাশের এলাকা আওয়ামী লীগের কর্মকাণ্ডের প্রতিবাদে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের বিক্ষোভ মিছিল পেনাল্টি মিস করেও ইতিহাস গড়লেন মেসি চোরাই পথে সার পাচারকালে আটক, মোবাইল কোর্টে ব্যবসায়ীকে ২০ হাজার টাকা জরিমানা উত্তরপ্রদেশের লখনউয়ের কোচিং সেন্টারে আগুন, ঝলসে মৃত্যু অন্তত ১৫ জনের  বকেয়া বিদ্যুৎবিল পরিশোধের পর চালু হলো বেলগাছি ইউনিয়ন পরিষদের কার্যক্রম ছাত্রলীগের ‘উসকানিমূলক কর্মকাণ্ডের’ প্রতিবাদে নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রদলের বিক্ষোভ মিছিল চুয়াডাঙ্গায় বিশেষ অভিযানে নিষিদ্ধ সংগঠনের ৭ নেতাকর্মী গ্রেফতার কুলাউড়ায় যানজট, মাদক ও অপরাধ দমনে নেওয়া হলো কঠোর সিদ্ধান্ত তাড়াশে কোচিং সেন্টারের আড়ালে শিক্ষকের বিরুদ্ধে ছাত্রীকে যৌন-নিপিড়নের অভিযোগ

অগ্রিম স্বাক্ষরের অভিযোগে ক্লোজড মাদকদ্রব্য পরিদর্শক শাহজালাল, তোলপাড় দর্শনা কেরু

বশিরুল আলম, সিনিয়র স্টাফ রিপোর্টার, চুয়াডাঙ্গা:
  • আপডেট সময় : ১২:৩৭:১৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ৩ জুন ২০২৬ ৬৪ বার পড়া হয়েছে
আজকের জার্নাল অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

চুয়াডাঙ্গার দর্শনা কেরু অ্যান্ড কোম্পানি—দেশের একমাত্র রাষ্ট্রীয় মদ উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান। বহু বছরের ঐতিহ্য, কঠোর নিয়ন্ত্রণ আর প্রশাসনিক নজরদারির মধ্যেই চলে এ প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম। কিন্তু সেই প্রতিষ্ঠানের মদের চালান সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ নথিতে “অগ্রিম স্বাক্ষর” এবং দায়িত্বে অনুপস্থিত থেকেও কার্যক্রম পরিচালনার অভিযোগ এখন পুরো জেলাজুড়ে আলোচনার ঝড় তুলেছে। আর সেই অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের পরিদর্শক শাহজালাল খান।

আরও পড়ুন, https://www.dailyamaderpatrika.com/2026/06/02/প্রবাস-ফেরত-গণমাধ্যম-কর্/

অবশেষে অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে তাকে ঢাকায় সংযুক্ত (ক্লোজড) করা হয়েছে। গত সোমবার (১ জুন) এ সিদ্ধান্ত কার্যকর হয় বলে নিশ্চিত করেছেন চুয়াডাঙ্গা জেলা কার্যালয়ের উপ-পরিচালক রফিকুল ইসলাম। জানা গেছে, দীর্ঘদিন ধরে দর্শনা কেরু অ্যান্ড কোম্পানির ডিস্টিলারি বিভাগে অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করছিলেন শাহজালাল খান। দায়িত্বের গুরুত্বপূর্ণ অবস্থানে থাকার কারণে তার স্বাক্ষর ছাড়া অনেক প্রশাসনিক কার্যক্রমই এগোতো না। কিন্তু সম্প্রতি অভিযোগ ওঠে—তিনি কর্মস্থলে উপস্থিত না থেকেও হাজিরা খাতায় উপস্থিতি দেখাতেন, এমনকি মদের চালান সংক্রান্ত স্পর্শকাতর নথিতেও আগেভাগে স্বাক্ষর করে রাখতেন।

সূত্র জানায়, গত ১৮ ও ১৯ মে তিনি নৈমিত্তিক ছুটিতে জেলার বাইরে অবস্থান করছিলেন। অথচ ওই সময় কেরু থেকে পাঠানো মদের চালানপত্রে তার স্বাক্ষর পাওয়া যায়। বিষয়টি সামনে আসতেই প্রশাসনিক মহলে শুরু হয় তীব্র আলোচনা ও সমালোচনা। কেরু কোম্পানির একাধিক সূত্র বলছে, চালান যাতে আটকে না যায়, সে কারণেই আগে থেকেই কিছু চালানপত্র ও ভাউচারে স্বাক্ষর করে রাখতেন তিনি। কিন্তু প্রশাসনিক দৃষ্টিকোণ থেকে এমন পদক্ষেপকে অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা। কারণ, স্পর্শকাতর নথিতে অগ্রিম স্বাক্ষর অনিয়ম ও অপব্যবহারের সুযোগ সৃষ্টি করতে পারে।

আরও পড়ুন, https://www.dailyamaderpatrika.com/2026/06/03/সৌজন্য-সাক্ষাতে-উন্নয়ন/

ঘটনাটি স্থানীয় পর্যায় থেকে ছড়িয়ে পড়ে জাতীয় গণমাধ্যমেও। প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ায় সংবাদ প্রকাশের পর মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ নড়েচড়ে বসে। পরে অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মোহাম্মদ শামছুল আলমকে প্রধান করে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়।
তদন্তের অংশ হিসেবে ইতোমধ্যে চুয়াডাঙ্গা জেলা কার্যালয়, কেরু অ্যান্ড কোম্পানি এবং সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন স্থানে তদন্ত কার্যক্রম পরিচালনা করেছেন তদন্ত কমিটির সদস্যরা। একইসঙ্গে শাহজালাল খানকে ঢাকায় ক্লোজড করার সিদ্ধান্ত নেয় অধিদপ্তর।

চুয়াডাঙ্গা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক রফিকুল ইসলাম বলেন,
“বিষয়টি নিয়ে তদন্ত কার্যক্রম চলমান রয়েছে। তদন্ত প্রতিবেদনের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।” তিনি আরও জানান, বিভাগীয় পর্যায়েও পৃথক তদন্ত হতে পারে। অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত হলে বিধি অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

আরও পড়ুন, https://www.dailyamaderpatrika.com/2026/06/03/আলমডাঙ্গায়-বিশেষ-চাহিদা/

এদিকে পুরো ঘটনাকে ঘিরে সাধারণ মানুষের মধ্যেও নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। প্রশাসনিক দায়িত্বে থাকা একজন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে এমন অভিযোগ শুধু একটি প্রতিষ্ঠানের ভাবমূর্তিকেই প্রশ্নবিদ্ধ করে না, বরং সরকারি দাপ্তরিক স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিয়েও নতুন করে ভাবতে বাধ্য করে। দর্শনা কেরুর মতো স্পর্শকাতর প্রতিষ্ঠানে দায়িত্ব পালনকারী কর্মকর্তাদের সততা, উপস্থিতি ও নৈতিকতার প্রশ্নে এখন তাই আরও কঠোর নজরদারির দাবি উঠেছে বিভিন্ন মহল থেকে।

নিউজটি শেয়ার করুন

অগ্রিম স্বাক্ষরের অভিযোগে ক্লোজড মাদকদ্রব্য পরিদর্শক শাহজালাল, তোলপাড় দর্শনা কেরু

আপডেট সময় : ১২:৩৭:১৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ৩ জুন ২০২৬

চুয়াডাঙ্গার দর্শনা কেরু অ্যান্ড কোম্পানি—দেশের একমাত্র রাষ্ট্রীয় মদ উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান। বহু বছরের ঐতিহ্য, কঠোর নিয়ন্ত্রণ আর প্রশাসনিক নজরদারির মধ্যেই চলে এ প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম। কিন্তু সেই প্রতিষ্ঠানের মদের চালান সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ নথিতে “অগ্রিম স্বাক্ষর” এবং দায়িত্বে অনুপস্থিত থেকেও কার্যক্রম পরিচালনার অভিযোগ এখন পুরো জেলাজুড়ে আলোচনার ঝড় তুলেছে। আর সেই অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের পরিদর্শক শাহজালাল খান।

আরও পড়ুন, https://www.dailyamaderpatrika.com/2026/06/02/প্রবাস-ফেরত-গণমাধ্যম-কর্/

অবশেষে অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে তাকে ঢাকায় সংযুক্ত (ক্লোজড) করা হয়েছে। গত সোমবার (১ জুন) এ সিদ্ধান্ত কার্যকর হয় বলে নিশ্চিত করেছেন চুয়াডাঙ্গা জেলা কার্যালয়ের উপ-পরিচালক রফিকুল ইসলাম। জানা গেছে, দীর্ঘদিন ধরে দর্শনা কেরু অ্যান্ড কোম্পানির ডিস্টিলারি বিভাগে অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করছিলেন শাহজালাল খান। দায়িত্বের গুরুত্বপূর্ণ অবস্থানে থাকার কারণে তার স্বাক্ষর ছাড়া অনেক প্রশাসনিক কার্যক্রমই এগোতো না। কিন্তু সম্প্রতি অভিযোগ ওঠে—তিনি কর্মস্থলে উপস্থিত না থেকেও হাজিরা খাতায় উপস্থিতি দেখাতেন, এমনকি মদের চালান সংক্রান্ত স্পর্শকাতর নথিতেও আগেভাগে স্বাক্ষর করে রাখতেন।

সূত্র জানায়, গত ১৮ ও ১৯ মে তিনি নৈমিত্তিক ছুটিতে জেলার বাইরে অবস্থান করছিলেন। অথচ ওই সময় কেরু থেকে পাঠানো মদের চালানপত্রে তার স্বাক্ষর পাওয়া যায়। বিষয়টি সামনে আসতেই প্রশাসনিক মহলে শুরু হয় তীব্র আলোচনা ও সমালোচনা। কেরু কোম্পানির একাধিক সূত্র বলছে, চালান যাতে আটকে না যায়, সে কারণেই আগে থেকেই কিছু চালানপত্র ও ভাউচারে স্বাক্ষর করে রাখতেন তিনি। কিন্তু প্রশাসনিক দৃষ্টিকোণ থেকে এমন পদক্ষেপকে অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা। কারণ, স্পর্শকাতর নথিতে অগ্রিম স্বাক্ষর অনিয়ম ও অপব্যবহারের সুযোগ সৃষ্টি করতে পারে।

আরও পড়ুন, https://www.dailyamaderpatrika.com/2026/06/03/সৌজন্য-সাক্ষাতে-উন্নয়ন/

ঘটনাটি স্থানীয় পর্যায় থেকে ছড়িয়ে পড়ে জাতীয় গণমাধ্যমেও। প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ায় সংবাদ প্রকাশের পর মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ নড়েচড়ে বসে। পরে অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মোহাম্মদ শামছুল আলমকে প্রধান করে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়।
তদন্তের অংশ হিসেবে ইতোমধ্যে চুয়াডাঙ্গা জেলা কার্যালয়, কেরু অ্যান্ড কোম্পানি এবং সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন স্থানে তদন্ত কার্যক্রম পরিচালনা করেছেন তদন্ত কমিটির সদস্যরা। একইসঙ্গে শাহজালাল খানকে ঢাকায় ক্লোজড করার সিদ্ধান্ত নেয় অধিদপ্তর।

চুয়াডাঙ্গা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক রফিকুল ইসলাম বলেন,
“বিষয়টি নিয়ে তদন্ত কার্যক্রম চলমান রয়েছে। তদন্ত প্রতিবেদনের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।” তিনি আরও জানান, বিভাগীয় পর্যায়েও পৃথক তদন্ত হতে পারে। অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত হলে বিধি অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

আরও পড়ুন, https://www.dailyamaderpatrika.com/2026/06/03/আলমডাঙ্গায়-বিশেষ-চাহিদা/

এদিকে পুরো ঘটনাকে ঘিরে সাধারণ মানুষের মধ্যেও নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। প্রশাসনিক দায়িত্বে থাকা একজন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে এমন অভিযোগ শুধু একটি প্রতিষ্ঠানের ভাবমূর্তিকেই প্রশ্নবিদ্ধ করে না, বরং সরকারি দাপ্তরিক স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিয়েও নতুন করে ভাবতে বাধ্য করে। দর্শনা কেরুর মতো স্পর্শকাতর প্রতিষ্ঠানে দায়িত্ব পালনকারী কর্মকর্তাদের সততা, উপস্থিতি ও নৈতিকতার প্রশ্নে এখন তাই আরও কঠোর নজরদারির দাবি উঠেছে বিভিন্ন মহল থেকে।