আলমডাঙ্গায় বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুদের মাঝে এ্যাসিস্টিভ ডিভাইস বিতরণ
- আপডেট সময় : ১১:৪৯:২৬ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৩ জুন ২০২৬ ১০৯ বার পড়া হয়েছে
একটি হুইলচেয়ার, একটি চশমা কিংবা একটি হিয়ারিং এইড— অনেকের কাছে হয়তো সাধারণ কিছু উপকরণ। কিন্তু বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন একটি শিশুর কাছে এগুলোই হতে পারে নতুন পৃথিবী দেখার জানালা, চলার সাহস কিংবা নিজের স্বপ্নকে ছুঁয়ে দেখার প্রথম সোপান।“একীভূত শিক্ষা বাস্তবায়নের লক্ষ্যে” আলমডাঙ্গায় বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুদের মাঝে হুইলচেয়ার, চশমা, হিয়ারিং এইড ও ওয়াকার (এ্যাসিস্টিভ ডিভাইস) বিতরণ অনুষ্ঠানে এমনই মানবিক ও আবেগঘন পরিবেশের সৃষ্টি হয়। বুধবার (৩ জুন, ২০২৬) উপজেলা পরিষদ চত্বরে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে শিশুদের হাসিমাখা মুখ আর অভিভাবকদের চোখের অশ্রুসজল কৃতজ্ঞতা উপস্থিত সবাইকে নাড়া দেয়।
আরও পড়ুন, https://www.dailyamaderpatrika.com/2026/06/03/সৌজন্য-সাক্ষাতে-উন্নয়ন/
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন আলমডাঙ্গা উপজেলা নির্বাহী অফিসার জনাব শাহীনুর আক্তার। তিনি বলেন, “বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুরা সমাজের বোঝা নয়, তারা আমাদেরই সন্তান। সঠিক সহায়তা ও সুযোগ পেলে তারাও দেশের সম্পদে পরিণত হতে পারে। তাদের পাশে দাঁড়ানো মানবিক দায়িত্বের পাশাপাশি রাষ্ট্রেরও অঙ্গীকার।”বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জেলা সহকারী প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার জনাব হেমায়েত আলী শাহ। তিনি বলেন,
“একীভূত শিক্ষা শুধু একটি প্রকল্প নয়, এটি একটি মানবিক আন্দোলন। কোনো শিশুই যেন পিছিয়ে না থাকে, সেটিই আমাদের লক্ষ্য।”
আরও পড়ুন, https://www.dailyamaderpatrika.com/2026/06/02/প্রবাস-ফেরত-গণমাধ্যম-কর্/
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার জনাব মোহাঃ আলাউদ্দীন। তিনি জানান, বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুদের শিক্ষা কার্যক্রমে সম্পৃক্ত রাখতে সরকার বিভিন্ন সহায়ক উদ্যোগ গ্রহণ করেছে এবং ভবিষ্যতেও এ ধারা অব্যাহত থাকবে। অনুষ্ঠানে উপজেলার বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক, শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন। এসময় শিশুদের হাতে প্রয়োজনীয় এ্যাসিস্টিভ ডিভাইস তুলে দেওয়া হলে অনেক অভিভাবক আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন।এক শিশুর মা কাঁদতে কাঁদতে বলেন, “আমার ছেলে ঠিকমতো হাঁটতে পারে না। আজ এই ওয়াকার পেয়ে মনে হচ্ছে ওর জীবনটা একটু সহজ হবে।”
আরও পড়ুন, https://www.dailyamaderpatrika.com/2026/06/02/মাটি-কাটার-মহোৎসব-চলছে-বা/
আরেক অভিভাবক বলেন, “আমরা গরিব মানুষ। হিয়ারিং এইড কেনার সামর্থ্য ছিল না। আজ আমার সন্তান নতুনভাবে শুনতে পারবে— এর চেয়ে বড় আনন্দ আর কী হতে পারে!” উপজেলা শিক্ষা অফিস, আলমডাঙ্গা, চুয়াডাঙ্গার আয়োজনে অনুষ্ঠিত এ মানবিক আয়োজন যেন প্রমাণ করে— একটু সহমর্মিতা, একটু সহযোগিতা আর আন্তরিক উদ্যোগই বদলে দিতে পারে একটি শিশুর জীবন।
বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুদের মুখের হাসি আর নতুন স্বপ্নে ভর করে আলমডাঙ্গার এ আয়োজন হয়ে উঠেছে মানবতা, ভালোবাসা ও অন্তর্ভুক্তিমূলক শিক্ষার এক অনন্য দৃষ্টান্ত।




















