যৌতুকের দাবিতে অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রীকে নির্যাতন, পাষণ্ড স্বামী গ্রেফতার
- আপডেট সময় : ১১:৩৮:৩৩ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৪ জুন ২০২৬ ৬৫ বার পড়া হয়েছে
মায়ের গর্ভেই থেমে গেলো একটি নিষ্পাপ প্রাণের স্পন্দন। পৃথিবীর আলো দেখার আগেই নিষ্ঠুরতার বলি হলো সাত মাসের এক অনাগত শিশু। অভিযোগ উঠেছে—যৌতুকের দাবিতে মাদকাসক্ত স্বামীর নির্মম নির্যাতন আর পেটে লাথির আঘাতেই গর্ভে থাকা সন্তানটি মারা গেছে। হৃদয়বিদারক এই ঘটনাটি ঘটেছে চুয়াডাঙ্গার জীবননগর উপজেলার সীমান্ত ইউনিয়নের কয়া গ্রামে।
আরও পড়ুন, https://www.dailyamaderpatrika.com/2026/06/04/নতুনকুঁড়ি-স্পোর্টসে-খুল/
এ ঘটনায় অভিযুক্ত স্বামী বিপ্লবকে (২৪) গ্রেফতার করেছে পুলিশ।স্থানীয় সূত্র ও ভুক্তভোগী পরিবারের অভিযোগে জানা যায়, কয়া গ্রামের সাহাবুলের ছেলে বিপ্লবের সঙ্গে একই গ্রামের সাইফুল ইসলামের মেয়ে শিখা খাতুনের (১৮) বিয়ে হয় পারিবারিকভাবে। বিয়ের কিছুদিন পর থেকেই সংসারে নেমে আসে অশান্তির কালো ছায়া। অভিযোগ রয়েছে, মাদকাসক্ত স্বামী বিপ্লব প্রায়ই স্ত্রীর কাছে নগদ টাকা, মোটরসাইকেল ও মোবাইল ফোন যৌতুক হিসেবে দাবি করতেন। দরিদ্র পরিবারের মেয়ে শিখার পক্ষে সেই দাবি পূরণ করা সম্ভব না হওয়ায় তাকে নিয়মিত শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের শিকার হতে হতো।
ভুক্তভোগী শিখা খাতুন জানান, গত ২৬ মে রাতেও যৌতুকের দাবিতে তাকে মারধর করা হয় এবং পেটে লাথি মারা হয়। এরপরও থামেনি নির্যাতন। গত ৩১ মে রাত প্রায় ১০টার দিকে বিপ্লব বাজার থেকে বাড়ি ফিরে আবারও এক লাখ টাকা, একটি মোটরসাইকেল ও একটি মোবাইল ফোন দাবি করে। শিখা তার বাবার অসহায় আর্থিক অবস্থার কথা জানালে ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে বিপ্লব। একপর্যায়ে সে অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রীকে বেধড়ক মারধর করে এবং তার পেটে সজোরে লাথি মারে।
আরও পড়ুন, https://www.dailyamaderpatrika.com/2026/06/04/নারায়ণগঞ্জের-অন্ধকার-গল/
নির্মম সেই আঘাতে গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন শিখা খাতুন। পরে পরিবারের সদস্য ও স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে জীবননগরের একটি বেসরকারি ক্লিনিকে ভর্তি করেন। পরদিন ১ জুন বিকেলে তাকে জীবননগর মনোয়ারা সনো সেন্টারে নিয়ে আল্ট্রাসনোগ্রাম করানো হলে চিকিৎসক গর্ভের সন্তানের কোনো হৃদস্পন্দন খুঁজে পাননি। এক ঘণ্টা অক্সিজেন দেওয়ার পর পুনরায় পরীক্ষা করেও সন্তানের কোনো সাড়া মেলেনি। পরে একটি ক্লিনিকে মৃত সন্তান প্রসব করেন শিখা।
কান্নাজড়িত কণ্ঠে শিখা খাতুন বলেন,“আমার স্বামী আমার বাবার অবস্থা জেনেই বিয়ে করেছিল। কিন্তু বিয়ের পর থেকেই টাকার জন্য চাপ দিতো। দাবি পূরণ করতে না পারলে মারধর করতো। সেদিন পেটে লাথি মারার পর আমি জ্ঞান হারিয়ে ফেলি। পরে হাসপাতালে গিয়ে জানতে পারি আমার সন্তান আর বেঁচে নেই। আমি এর বিচার চাই।”এ বিষয়ে জীবননগর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. সোলায়মান শেখ জানান, ভুক্তভোগী শিখা খাতুন বাদী হয়ে বুধবার সন্ধ্যায় তার স্বামী বিপ্লবের বিরুদ্ধে ভ্রূণ হত্যা মামলা দায়ের করেছেন।
আরও পড়ুন, https://www.dailyamaderpatrika.com/2026/06/04/দামে-ধস-লোকসানের-শঙ্কায়/
মামলার পরপরই পুলিশ অভিযান চালিয়ে অভিযুক্তকে গ্রেফতার করে।এদিকে, যৌতুকের দাবিতে অন্তঃসত্ত্বা নারীর ওপর এমন বর্বর নির্যাতন ও অনাগত শিশুর মৃত্যুর ঘটনায় পুরো এলাকায় নেমে এসেছে শোক ও ক্ষোভের ছায়া। স্থানীয় সচেতন মহল ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা এই অমানবিক ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে দোষীর সর্বোচ্চ শাস্তির দাবি জানিয়েছেন। মানবিক মূল্যবোধ যখন ক্রমেই প্রশ্নবিদ্ধ, তখন কয়া গ্রামের এই ঘটনা যেন সমাজের বিবেককে নাড়িয়ে দিয়েছে। একটি অনাগত শিশুর মৃত্যু শুধু একটি পরিবারের নয়, পুরো সমাজের জন্যই এক গভীর বেদনার প্রতিচ্ছবি।



















