মাঝরাতে কেঁপে উঠল বাংলাদেশ
আতঙ্ক, দোয়া আর অনিশ্চয়তার এক রাত কাটাল চুয়াডাঙ্গাসহ দেশের মানুষ
- আপডেট সময় : ১০:৪০:০৯ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ৮ জুন ২০২৬ ৭৮ বার পড়া হয়েছে
মাঝরাতের নীরবতা। দিনের ব্যস্ততা শেষে সবাই যখন ঘুমের গভীরে তলিয়ে যাচ্ছিলেন, ঠিক তখনই হঠাৎ কেঁপে উঠল ঘর, জানালা আর মানুষের বুকের ভেতর জমে থাকা অজানা ভয়। কয়েক সেকেন্ডের সেই কম্পন যেন মুহূর্তেই বদলে দিল চারপাশের পরিবেশ। আতঙ্কিত মানুষ ছুটে বেরিয়ে এলেন ঘর থেকে। কেউ সন্তানকে বুকে জড়িয়ে ধরলেন, কেউ আবার মহান সৃষ্টিকর্তার নাম নিয়ে দাঁড়িয়ে রইলেন খোলা আকাশের নিচে।
শনিবার দিবাগত রাত ১১টা ৩৬ মিনিটে বাংলাদেশসহ দক্ষিণ এশিয়ার পাঁচটি দেশে শক্তিশালী একটি ভূমিকম্প অনুভূত হয়েছে। চুয়াডাঙ্গাসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় এই কম্পনের প্রভাব টের পান সাধারণ মানুষ। অ্যান্ড্রয়েড আর্থকুয়েক অ্যালার্ট সিস্টেমের প্রাথমিক তথ্যমতে, ভূমিকম্পটির আনুমানিক মাত্রা ছিল রিখটার স্কেলে ৫.৭।
আরও পড়ুন, https://www.dailyamaderpatrika.com/2026/06/08/কুলাউড়া-থানায়-সাপ্তাহি/
প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, প্রতিবেশী দেশ ভূটানের পুনাখা শহর থেকে প্রায় ৭ কিলোমিটার দূরে এর উৎপত্তি। ভূমিকম্পটি বাংলাদেশ, ভারত, নেপাল, ভূটান ও চীনের বিস্তীর্ণ এলাকায় অনুভূত হয়। বিশেষ করে বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলের কয়েকটি জেলায় কম্পনের মাত্রা তুলনামূলক বেশি ছিল বলে জানা গেছে। তবে চুয়াডাঙ্গাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানের মানুষও মাঝরাতের এই হঠাৎ ঝাঁকুনিতে আতঙ্কিত হয়ে পড়েন।চুয়াডাঙ্গা শহরের কয়েকটি এলাকায় কথা বলে জানা যায়, অনেকে প্রথমে বুঝতেই পারেননি কী ঘটছে। কেউ ভেবেছেন ঝড়ের দমকা হাওয়া, কেউ আবার আশঙ্কা করেছেন বড় কোনো দুর্ঘটনার। কয়েক সেকেন্ডের কম্পন থেমে গেলেও মানুষের মনে রয়ে যায় ভয় আর অনিশ্চয়তা।
শহরের কলেজপাড়া এলাকার বাসিন্দা এক গৃহিণী বলেন,“হঠাৎ খাট কাঁপতে শুরু করে। মনে হচ্ছিল পুরো ঘর দুলছে। বাচ্চাদের নিয়ে দ্রুত বাইরে বের হয়ে আসি।”
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও রাতভর বিভিন্ন এলাকা থেকে ভূমিকম্প অনুভূত হওয়ার খবর ছড়িয়ে পড়ে। অনেকেই আতঙ্কের অভিজ্ঞতা শেয়ার করেন। কেউ লিখেছেন ‘আল্লাহ আমাদের রক্ষা করুন’, আবার কেউ বলছেন, “কয়েক সেকেন্ডেই বুঝিয়ে দিল মানুষ কত অসহায়।”
আরও পড়ুন, https://www.dailyamaderpatrika.com/2026/06/08/শ্রীপুর-পৌরসভার-সাবেক-মে/
তবে এখন পর্যন্ত বাংলাদেশে কোনো প্রাণহানি বা বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে।বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তরের ভূমিকম্প পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রের সহকারী আবহাওয়াবিদ ফারজানা সুলতানা বলেন,“রংপুর বিভাগে ভূমিকম্পটি সবচেয়ে বেশি অনুভূত হয়েছে। তবে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি। আমরা বিস্তারিত তথ্য পর্যালোচনা করছি।”
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ভূমিকম্পের মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ মানুষকে বারবার মনে করিয়ে দেয়—প্রকৃতির কাছে মানবসভ্যতা কতটা অসহায়। তাই আতঙ্কিত না হয়ে সচেতনতা ও প্রস্তুতিই হতে পারে নিরাপদ থাকার সবচেয়ে বড় উপায়।
মাঝরাতের কয়েক সেকেন্ডের সেই কম্পন হয়তো থেমে গেছে, কিন্তু মানুষের মনে রেখে গেছে এক অদৃশ্য শঙ্কা—আবার কবে কেঁপে উঠবে এই মাটি?




















