ঢাকা ০৩:০৭ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৩ জুন ২০২৬, ৮ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষ:
৪ মাত্রার ভূমিকম্পে কাঁপল ঢাকা ও আশপাশের এলাকা আওয়ামী লীগের কর্মকাণ্ডের প্রতিবাদে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের বিক্ষোভ মিছিল পেনাল্টি মিস করেও ইতিহাস গড়লেন মেসি চোরাই পথে সার পাচারকালে আটক, মোবাইল কোর্টে ব্যবসায়ীকে ২০ হাজার টাকা জরিমানা উত্তরপ্রদেশের লখনউয়ের কোচিং সেন্টারে আগুন, ঝলসে মৃত্যু অন্তত ১৫ জনের  বকেয়া বিদ্যুৎবিল পরিশোধের পর চালু হলো বেলগাছি ইউনিয়ন পরিষদের কার্যক্রম ছাত্রলীগের ‘উসকানিমূলক কর্মকাণ্ডের’ প্রতিবাদে নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রদলের বিক্ষোভ মিছিল চুয়াডাঙ্গায় বিশেষ অভিযানে নিষিদ্ধ সংগঠনের ৭ নেতাকর্মী গ্রেফতার কুলাউড়ায় যানজট, মাদক ও অপরাধ দমনে নেওয়া হলো কঠোর সিদ্ধান্ত তাড়াশে কোচিং সেন্টারের আড়ালে শিক্ষকের বিরুদ্ধে ছাত্রীকে যৌন-নিপিড়নের অভিযোগ

জমি লিখে দিতে অস্বীকৃতি, বৃদ্ধা মাকে ঘরে আটকে নির্যাতন

বশিরুল আলম, সিনিয়র স্টাফ রিপোর্টার, চুয়াডাঙ্গা:
  • আপডেট সময় : ০১:৫১:৩০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১১ জুন ২০২৬ ১১০ বার পড়া হয়েছে
আজকের জার্নাল অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

জীবনের শেষ বয়সে এসে যে সন্তানদের স্নেহ-মমতায় আশ্রয় পাওয়ার কথা, সেই সন্তানদের হাতেই নির্যাতনের শিকার হওয়ার অভিযোগ তুলেছেন চুয়াডাঙ্গার এক বৃদ্ধা মা। স্বামীর রেখে যাওয়া জমিজমা ও ওয়ারিশসূত্রে পাওয়া সম্পত্তি ছেলেদের নামে লিখে দিতে রাজি না হওয়ায় তাকে মারধর, ঘরে আটকে রাখা, অল্প খাবার দেওয়া এবং হত্যার হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে দুই ছেলে ও দুই পুত্রবধূর বিরুদ্ধে।

এ ঘটনায় চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার বোয়ালমারী গ্রামের বাসিন্দা মোছা. জাহানারা বেগম (৬৬) চুয়াডাঙ্গার বিজ্ঞ সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট (আমলি আদালত, সদর) আদালতে মামলা দায়ের করেছেন। মামলাটি সি.আর. নং-৬৯৮/২৬ হিসেবে নথিভুক্ত হয়েছে। আদালত অভিযোগটি আমলে নিয়ে চুয়াডাঙ্গার পুলিশ সুপারকে তদন্ত করে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দিয়েছেন।

আরও পড়ুন, https://www.dailyamaderpatrika.com/2026/06/11/মেসির-ছবি-আর্জেন্টিনার-প/

মামলার আসামিরা হলেন জাহানারা বেগমের বড় ছেলে মো. জাব্বারুল হক রবিউল (৪৮), ছোট ছেলে মো. হুমায়ন রশিদ জুয়েল (৪৫) এবং দুই পুত্রবধূ মোছা. কাজল নেহা (৪২) ও খাদিজা খাতুন (৩৯)। তারা সবাই একই গ্রামের বাসিন্দা। জানা গেছে, বড় ছেলে জাব্বারুল হক রবিউল স্থানীয় একটি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক।

মামলার আরজিতে উল্লেখ করা হয়েছে, জাহানারা বেগমের স্বামী মৃত আব্দুস সাত্তার জীবিত অবস্থায় স্ত্রীর নামে কিছু জমি লিখে দিয়ে যান। পাশাপাশি ওয়ারিশসূত্রেও তিনি কিছু সম্পত্তির মালিক হন। অভিযোগ রয়েছে, দীর্ঘদিন ধরে ওই জমিগুলো ছেলেদের নামে লিখে দেওয়ার জন্য তার ওপর চাপ প্রয়োগ করা হচ্ছিল। এতে রাজি না হওয়ায় তাকে মানসিক ও শারীরিকভাবে নির্যাতনের শিকার হতে হয়।

আরও পড়ুন, https://www.dailyamaderpatrika.com/2026/06/11/মিরপুরে-চলন্ত-বাইকারের-ম/

চার দিন অবরুদ্ধ থাকার অভিযোগ মামলার বিবরণ অনুযায়ী, গত ২০ মে বিকেল ৪টার দিকে তাকে মারধর করে বাড়ির দোতলার একটি কক্ষে আটকে রাখা হয়। পরবর্তীতে ২৪ মে সকাল সাড়ে ৭টা পর্যন্ত প্রায় চার দিন তাকে অবরুদ্ধ অবস্থায় রাখা হয়। অভিযোগে বলা হয়েছে, ওই সময়ে তার চলাফেরা, গোসল ও শৌচাগার ব্যবহারের ওপরও নজরদারি করা হয়। প্রয়োজনের তুলনায় অল্প খাবার দেওয়া হতো এবং জমি লিখে না দিলে হত্যা ও গুম করার হুমকিও দেওয়া হয়। কান্নাজড়িত কণ্ঠে জাহানারা বেগম বলেন, “আমার স্বামী জীবিত অবস্থায় আমার নামে কিছু জমি লিখে দিয়ে গেছেন। সেই জমি ও ওয়ারিশসূত্রে পাওয়া সম্পত্তি ছেলেরা নিজেদের দখলে নিয়ে চাষাবাদ করছে। আমি আমার অধিকার চাইলে তারা আমাকে মারধর করে এবং জমি তাদের নামে লিখে দিতে চাপ দেয়।” তিনি আরও বলেন,“ছেলে ও পুত্রবধূরা আমাকে বাড়ি থেকে বের করে দিয়েছিল।

পরে কয়েক মাস ভাড়া বাসায় থাকতে হয়েছে। স্থানীয় লোকজনের মধ্যস্থতায় আবার বাড়িতে ফিরলেও নির্যাতন বন্ধ হয়নি। ঠিকমতো খেতে দিত না, বাইরে যেতে দিত না। এমনকি ছোট ছেলে আমাকে মেরে ফেলার হুমকিও দিয়েছে। একপর্যায়ে মেয়েকে গোপনে ফোন করে সাহায্য চাই। পরে মেয়ের সহযোগিতায় ভোরে সেখান থেকে বের হয়ে আসি।”নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক স্থানীয় ব্যক্তি জানান, দীর্ঘদিন ধরেই পরিবারটিতে জমিজমা নিয়ে বিরোধ চলছিল। কয়েক দফা স্থানীয়ভাবে বিষয়টির সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হলেও তা স্থায়ী সমাধানে পৌঁছায়নি।

আরও পড়ুন, https://www.dailyamaderpatrika.com/2026/06/11/গভীর-রাতে-বর্জ্য-ব্যবস্থ/

স্থানীয় বাসিন্দা মো. জাহাঙ্গীর আলম বলেন, “এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিরা বিষয়টি মীমাংসার চেষ্টা করেছিলেন। কিন্তু অভিযুক্ত দুই ভাই বৈঠকে উপস্থিত হননি। জাহানারা বেগমের নামে থাকা জমি নিয়েও দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছে।”স্থানীয় ইউপি সদস্য মো. বাবুল হোসেন বলেন,“জাহানারা বেগমের সঙ্গে তার ছেলেদের জমিজমা নিয়ে পারিবারিক বিরোধ রয়েছে। বিষয়টি নিয়ে এলাকায় একাধিকবার আলোচনা হয়েছে।”তবে সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন বড় ছেলে মো. জাব্বারুল হক রবিউল। তিনি বলেন,“মাকে অবরুদ্ধ রাখা বা মারধরের অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা। আমাদের বিরুদ্ধে যে অভিযোগ আনা হয়েছে, তার কোনো ভিত্তি নেই।”

এদিকে আদালতের নির্দেশে পুলিশি তদন্ত শুরু হলে ঘটনার প্রকৃত সত্য উদঘাটিত হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। বৃদ্ধা মায়ের অভিযোগ সত্য প্রমাণিত হলে এটি শুধু একটি পারিবারিক বিরোধ নয়, বরং সমাজে বয়স্ক বাবা-মায়ের নিরাপত্তা ও মর্যাদা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলে দেবে।

নিউজটি শেয়ার করুন

ট্যাগস :

জমি লিখে দিতে অস্বীকৃতি, বৃদ্ধা মাকে ঘরে আটকে নির্যাতন

আপডেট সময় : ০১:৫১:৩০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১১ জুন ২০২৬

জীবনের শেষ বয়সে এসে যে সন্তানদের স্নেহ-মমতায় আশ্রয় পাওয়ার কথা, সেই সন্তানদের হাতেই নির্যাতনের শিকার হওয়ার অভিযোগ তুলেছেন চুয়াডাঙ্গার এক বৃদ্ধা মা। স্বামীর রেখে যাওয়া জমিজমা ও ওয়ারিশসূত্রে পাওয়া সম্পত্তি ছেলেদের নামে লিখে দিতে রাজি না হওয়ায় তাকে মারধর, ঘরে আটকে রাখা, অল্প খাবার দেওয়া এবং হত্যার হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে দুই ছেলে ও দুই পুত্রবধূর বিরুদ্ধে।

এ ঘটনায় চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার বোয়ালমারী গ্রামের বাসিন্দা মোছা. জাহানারা বেগম (৬৬) চুয়াডাঙ্গার বিজ্ঞ সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট (আমলি আদালত, সদর) আদালতে মামলা দায়ের করেছেন। মামলাটি সি.আর. নং-৬৯৮/২৬ হিসেবে নথিভুক্ত হয়েছে। আদালত অভিযোগটি আমলে নিয়ে চুয়াডাঙ্গার পুলিশ সুপারকে তদন্ত করে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দিয়েছেন।

আরও পড়ুন, https://www.dailyamaderpatrika.com/2026/06/11/মেসির-ছবি-আর্জেন্টিনার-প/

মামলার আসামিরা হলেন জাহানারা বেগমের বড় ছেলে মো. জাব্বারুল হক রবিউল (৪৮), ছোট ছেলে মো. হুমায়ন রশিদ জুয়েল (৪৫) এবং দুই পুত্রবধূ মোছা. কাজল নেহা (৪২) ও খাদিজা খাতুন (৩৯)। তারা সবাই একই গ্রামের বাসিন্দা। জানা গেছে, বড় ছেলে জাব্বারুল হক রবিউল স্থানীয় একটি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক।

মামলার আরজিতে উল্লেখ করা হয়েছে, জাহানারা বেগমের স্বামী মৃত আব্দুস সাত্তার জীবিত অবস্থায় স্ত্রীর নামে কিছু জমি লিখে দিয়ে যান। পাশাপাশি ওয়ারিশসূত্রেও তিনি কিছু সম্পত্তির মালিক হন। অভিযোগ রয়েছে, দীর্ঘদিন ধরে ওই জমিগুলো ছেলেদের নামে লিখে দেওয়ার জন্য তার ওপর চাপ প্রয়োগ করা হচ্ছিল। এতে রাজি না হওয়ায় তাকে মানসিক ও শারীরিকভাবে নির্যাতনের শিকার হতে হয়।

আরও পড়ুন, https://www.dailyamaderpatrika.com/2026/06/11/মিরপুরে-চলন্ত-বাইকারের-ম/

চার দিন অবরুদ্ধ থাকার অভিযোগ মামলার বিবরণ অনুযায়ী, গত ২০ মে বিকেল ৪টার দিকে তাকে মারধর করে বাড়ির দোতলার একটি কক্ষে আটকে রাখা হয়। পরবর্তীতে ২৪ মে সকাল সাড়ে ৭টা পর্যন্ত প্রায় চার দিন তাকে অবরুদ্ধ অবস্থায় রাখা হয়। অভিযোগে বলা হয়েছে, ওই সময়ে তার চলাফেরা, গোসল ও শৌচাগার ব্যবহারের ওপরও নজরদারি করা হয়। প্রয়োজনের তুলনায় অল্প খাবার দেওয়া হতো এবং জমি লিখে না দিলে হত্যা ও গুম করার হুমকিও দেওয়া হয়। কান্নাজড়িত কণ্ঠে জাহানারা বেগম বলেন, “আমার স্বামী জীবিত অবস্থায় আমার নামে কিছু জমি লিখে দিয়ে গেছেন। সেই জমি ও ওয়ারিশসূত্রে পাওয়া সম্পত্তি ছেলেরা নিজেদের দখলে নিয়ে চাষাবাদ করছে। আমি আমার অধিকার চাইলে তারা আমাকে মারধর করে এবং জমি তাদের নামে লিখে দিতে চাপ দেয়।” তিনি আরও বলেন,“ছেলে ও পুত্রবধূরা আমাকে বাড়ি থেকে বের করে দিয়েছিল।

পরে কয়েক মাস ভাড়া বাসায় থাকতে হয়েছে। স্থানীয় লোকজনের মধ্যস্থতায় আবার বাড়িতে ফিরলেও নির্যাতন বন্ধ হয়নি। ঠিকমতো খেতে দিত না, বাইরে যেতে দিত না। এমনকি ছোট ছেলে আমাকে মেরে ফেলার হুমকিও দিয়েছে। একপর্যায়ে মেয়েকে গোপনে ফোন করে সাহায্য চাই। পরে মেয়ের সহযোগিতায় ভোরে সেখান থেকে বের হয়ে আসি।”নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক স্থানীয় ব্যক্তি জানান, দীর্ঘদিন ধরেই পরিবারটিতে জমিজমা নিয়ে বিরোধ চলছিল। কয়েক দফা স্থানীয়ভাবে বিষয়টির সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হলেও তা স্থায়ী সমাধানে পৌঁছায়নি।

আরও পড়ুন, https://www.dailyamaderpatrika.com/2026/06/11/গভীর-রাতে-বর্জ্য-ব্যবস্থ/

স্থানীয় বাসিন্দা মো. জাহাঙ্গীর আলম বলেন, “এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিরা বিষয়টি মীমাংসার চেষ্টা করেছিলেন। কিন্তু অভিযুক্ত দুই ভাই বৈঠকে উপস্থিত হননি। জাহানারা বেগমের নামে থাকা জমি নিয়েও দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছে।”স্থানীয় ইউপি সদস্য মো. বাবুল হোসেন বলেন,“জাহানারা বেগমের সঙ্গে তার ছেলেদের জমিজমা নিয়ে পারিবারিক বিরোধ রয়েছে। বিষয়টি নিয়ে এলাকায় একাধিকবার আলোচনা হয়েছে।”তবে সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন বড় ছেলে মো. জাব্বারুল হক রবিউল। তিনি বলেন,“মাকে অবরুদ্ধ রাখা বা মারধরের অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা। আমাদের বিরুদ্ধে যে অভিযোগ আনা হয়েছে, তার কোনো ভিত্তি নেই।”

এদিকে আদালতের নির্দেশে পুলিশি তদন্ত শুরু হলে ঘটনার প্রকৃত সত্য উদঘাটিত হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। বৃদ্ধা মায়ের অভিযোগ সত্য প্রমাণিত হলে এটি শুধু একটি পারিবারিক বিরোধ নয়, বরং সমাজে বয়স্ক বাবা-মায়ের নিরাপত্তা ও মর্যাদা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলে দেবে।