বাবা মুক্তিযুদ্ধে শহীদ দাবি, অথচ জন্ম ১৯৮১ সালে: জামায়াত এমপি আব্দুল মুনতাকিমের বক্তব্যে বিতর্ক
- আপডেট সময় : ১২:৪৩:৫৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৭ জুন ২০২৬ ১০৫ বার পড়া হয়েছে
জাতীয় সংসদে দেওয়া এক বক্তব্যকে কেন্দ্র করে ব্যাপক বিতর্কের মুখে পড়েছেন জামায়াতে ইসলামী থেকে নির্বাচিত নীলফামারী-৪ আসনের সংসদ সদস্য আব্দুল মুনতাকিম। মুক্তিযুদ্ধে তার বাবা শহীদ হয়েছেন বলে দাবি করলেও, নির্বাচন কমিশনে জমা দেওয়া হলফনামায় উল্লেখিত জন্মতারিখ সেই দাবিকে ঘিরে নানা প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে।
আরও পড়ুন, https://www.dailyamaderpatrika.com/2026/06/17/ইউপি-চেয়ারম্যানের-বিরুদ/
মঙ্গলবার (১৬ জুন) জাতীয় সংসদের অধিবেশনে বক্তব্য দিতে গিয়ে আব্দুল মুনতাকিম নিজের পরিবারের মুক্তিযুদ্ধকালীন অবদানের কথা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, “আমার বাবা এবং দাদা যুদ্ধে শহীদ হয়েছেন। আমার বাবারা সাত ভাই, এর মধ্যে চারজন মুক্তিযোদ্ধা। আমার দাদারা ১৯ জন, ১১ জনই মুক্তিযোদ্ধা। আমার পরিবারে ৪৭ জন মুক্তিযোদ্ধা রয়েছেন। আমার মা-ও মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক ছিলেন।”
সংসদে দেওয়া এই বক্তব্যের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর শুরু হয় ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা। অনেকেই তার বক্তব্যের সঙ্গে নির্বাচন কমিশনে দাখিল করা তথ্যের অসঙ্গতি তুলে ধরেন।
আরও পড়ুন, https://www.dailyamaderpatrika.com/2026/06/17/ইউপি-চেয়ারম্যানের-বিরুদ/
নির্বাচন কমিশনে জমা দেওয়া তার হলফনামা পর্যালোচনায় দেখা যায়, আব্দুল মুনতাকিমের জন্মতারিখ উল্লেখ করা হয়েছে ১৯৮১ সালের ১০ জানুয়ারি। সে হিসেবে মহান মুক্তিযুদ্ধ সংঘটিত হওয়ার প্রায় এক দশক পর তার জন্ম। এ প্রেক্ষাপটে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রশ্ন উঠেছে, ১৯৭১ সালে তার বাবা শহীদ হয়ে থাকলে ১৯৮১ সালে তার জন্ম কীভাবে সম্ভব হলো।
বিষয়টি নিয়ে জানতে চাইলে জামায়াতে ইসলামীর প্রচার ও মিডিয়া বিভাগের প্রধান এহসানুল মাহবুব জুবায়ের বলেন, “বিষয়টি সম্পর্কে আমি এখনো অবগত নই। আব্দুল মুনতাকিমের সঙ্গে কথা বলে পরে বিস্তারিত জানানো হবে।” তবে তাৎক্ষণিকভাবে তিনি এ বিষয়ে আর কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।
আরও পড়ুন, https://www.dailyamaderpatrika.com/2026/06/17/মাদারীপুর-পৌরসভার-১১০-কো/
এদিকে বক্তব্যের ব্যাখ্যা জানতে আব্দুল মুনতাকিমের ব্যক্তিগত মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি কল রিসিভ করেননি। ফলে এ বিষয়ে তার কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
সংসদ সদস্যের বক্তব্য এবং হলফনামায় থাকা তথ্যের মধ্যে দৃশ্যমান এই অসঙ্গতি নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গন ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনা অব্যাহত রয়েছে।




















