ঢাকা ১১:২৫ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২২ জুন ২০২৬, ৮ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষ:
তিস্তার ভয়াবহ ভাঙনে হুমকিতে মহিপুর সেতু, ঝুঁকিতে রংপুর-কাকিনা সড়ক আলমডাঙ্গায় মাদকসেবনের দায়ে দুই যুবকের কারাদণ্ড তামিলনাড়ুর কারখানায় গ্যাস লিক! মৃত অন্তত ৭, আহত ৬৭ দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত ৬৩৩ পরিবারের মুখে স্বস্তির হাসি: আলমডাঙ্গায় নগদ অর্থ ও খাদ্যশস্য বিতরণ মাদারগঞ্জে জাতীয় ফল মেলা-২০২৬ অনুষ্ঠিত ইউপি চেয়ারম্যানের কিশোরগ্যাং কর্তৃক হামলার শিকার চ্যানেল ওয়ান’র রিপোর্টার অপু রংপুর নগরজুড়ে ঝুলন্ত অবৈধ তারের জঞ্জাল, নানা ঝুঁকিসহ ভয়ংকর দুর্ঘটনার আশংকা নান্দাইলে ইউপি নির্বাচনকে সামনে রেখে চেয়ারম্যান প্রার্থী আলহাজ্ব ওয়ালীউল্লাহর মতবিনিময় সভা রায়গঞ্জে সোনাখাড়া ইউনিয়নে টিআর-কাবিটা-কাবিখা প্রকল্পে অনিয়মের অভিযোগ  ময়নাগুড়িতে দাঁড়িয়ে থাকা ট্রাকে সজোরে ধাক্কা বাসের ! ভয়াবহ দুর্ঘটনায় মৃত অন্তত ৫

১ লাখ টাকার বেশি বকেয়া বিদ্যুৎবিল: চারদিন অন্ধকারে বেলগাছি ইউনিয়ন পরিষদ, দুর্ভোগে সাধারণ মানুষ

বশিরুল আলম, সিনিয়র স্টাফ রিপোর্টার, চুয়াডাঙ্গা:
  • আপডেট সময় : ০৬:৩৮:৩৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ২১ জুন ২০২৬ ১৯ বার পড়া হয়েছে
আজকের জার্নাল অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গা উপজেলার বেলগাছি ইউনিয়ন পরিষদে যেন থমকে গেছে জনসেবার চাকা। প্রায় ১ লাখ ১০ হাজার টাকা বকেয়া বিদ্যুৎবিলের কারণে পল্লী বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষ বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেওয়ায় টানা চারদিন ধরে অন্ধকারে রয়েছে ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয়। এতে জন্মনিবন্ধন, বিভিন্ন ধরনের সনদপত্র প্রদান, নাগরিক সেবা এবং কম্পিউটারভিত্তিক প্রশাসনিক কার্যক্রম কার্যত বন্ধ হয়ে পড়েছে। সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েছেন ইউনিয়নের সাধারণ সেবাগ্রহীতারা।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ২০২৫ সালের জুলাই মাসে অনুষ্ঠিত ইউনিয়ন পরিষদের এক সভায় এক বছরের বিদ্যুৎবিল পরিশোধের জন্য রেজুলেশন গৃহীত হয়। সেই অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দায়িত্ব বর্তমান ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছিল। তবে নির্ধারিত সময়ে বিদ্যুৎবিল পরিশোধ না হওয়ায় বকেয়া ক্রমেই বৃদ্ধি পেতে থাকে।

অবশেষে গত ১৮ জুন বকেয়া বিলের কারণে পল্লী বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষ বেলগাছি ইউনিয়ন পরিষদের বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেয়। এরপর থেকেই পরিষদ কার্যালয়ের স্বাভাবিক কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। বিদ্যুৎ না থাকায় কম্পিউটার, প্রিন্টারসহ অন্যান্য প্রযুক্তিনির্ভর সরঞ্জাম ব্যবহার করা যাচ্ছে না। ফলে প্রয়োজনীয় সেবা নিতে এসে অনেককেই খালি হাতে ফিরে যেতে হচ্ছে।

পরিষদ কার্যালয়ে গিয়ে দেখা যায়, বিদ্যুৎ না থাকায় পাখা ও বাতি বন্ধ। কর্মচারীরা স্বাভাবিকভাবে কাজ করতে পারছেন না। অফিসের পরিবেশও হয়ে উঠেছে অস্বস্তিকর। জন্মনিবন্ধন সংশোধন, নাগরিকত্ব সনদ, প্রত্যয়নপত্রসহ নানা সেবা বন্ধ থাকায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

ইউনিয়নের কয়েকজন বাসিন্দা জানান, প্রতিদিন বিভিন্ন প্রয়োজনে ইউনিয়ন পরিষদে মানুষের যাতায়াত থাকে। কিন্তু বিদ্যুৎ না থাকায় অধিকাংশ সেবাই এখন অচল। এতে সাধারণ মানুষের সময় ও অর্থ দুটোই অপচয় হচ্ছে। দ্রুত সমস্যার সমাধান না হলে জনদুর্ভোগ আরও বাড়বে বলে আশঙ্কা করছেন তারা।

এ বিষয়ে বেলগাছি ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মিয়েরাজ হোসেন বলেন, “বকেয়া বিদ্যুৎবিল পরিশোধ করে দ্রুত বিদ্যুৎ সংযোগ পুনঃস্থাপনের চেষ্টা চলছে। আশা করছি খুব শিগগিরই বিল পরিশোধ করে বিদ্যুৎ সংযোগ চালুর ব্যবস্থা করা সম্ভব হবে।”

এদিকে ইউনিয়নবাসীর দাবি, জনসেবার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান হিসেবে ইউনিয়ন পরিষদের কার্যক্রম সচল রাখতে দ্রুত বিদ্যুৎ সংযোগ পুনঃস্থাপন এবং ভবিষ্যতে এমন পরিস্থিতি এড়াতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা হোক। তাদের মতে, প্রশাসনিক অব্যবস্থাপনার দায় যেন সাধারণ মানুষের ভোগান্তির কারণ না হয়।

নিউজটি শেয়ার করুন

১ লাখ টাকার বেশি বকেয়া বিদ্যুৎবিল: চারদিন অন্ধকারে বেলগাছি ইউনিয়ন পরিষদ, দুর্ভোগে সাধারণ মানুষ

আপডেট সময় : ০৬:৩৮:৩৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ২১ জুন ২০২৬

চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গা উপজেলার বেলগাছি ইউনিয়ন পরিষদে যেন থমকে গেছে জনসেবার চাকা। প্রায় ১ লাখ ১০ হাজার টাকা বকেয়া বিদ্যুৎবিলের কারণে পল্লী বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষ বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেওয়ায় টানা চারদিন ধরে অন্ধকারে রয়েছে ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয়। এতে জন্মনিবন্ধন, বিভিন্ন ধরনের সনদপত্র প্রদান, নাগরিক সেবা এবং কম্পিউটারভিত্তিক প্রশাসনিক কার্যক্রম কার্যত বন্ধ হয়ে পড়েছে। সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েছেন ইউনিয়নের সাধারণ সেবাগ্রহীতারা।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ২০২৫ সালের জুলাই মাসে অনুষ্ঠিত ইউনিয়ন পরিষদের এক সভায় এক বছরের বিদ্যুৎবিল পরিশোধের জন্য রেজুলেশন গৃহীত হয়। সেই অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দায়িত্ব বর্তমান ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছিল। তবে নির্ধারিত সময়ে বিদ্যুৎবিল পরিশোধ না হওয়ায় বকেয়া ক্রমেই বৃদ্ধি পেতে থাকে।

অবশেষে গত ১৮ জুন বকেয়া বিলের কারণে পল্লী বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষ বেলগাছি ইউনিয়ন পরিষদের বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেয়। এরপর থেকেই পরিষদ কার্যালয়ের স্বাভাবিক কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। বিদ্যুৎ না থাকায় কম্পিউটার, প্রিন্টারসহ অন্যান্য প্রযুক্তিনির্ভর সরঞ্জাম ব্যবহার করা যাচ্ছে না। ফলে প্রয়োজনীয় সেবা নিতে এসে অনেককেই খালি হাতে ফিরে যেতে হচ্ছে।

পরিষদ কার্যালয়ে গিয়ে দেখা যায়, বিদ্যুৎ না থাকায় পাখা ও বাতি বন্ধ। কর্মচারীরা স্বাভাবিকভাবে কাজ করতে পারছেন না। অফিসের পরিবেশও হয়ে উঠেছে অস্বস্তিকর। জন্মনিবন্ধন সংশোধন, নাগরিকত্ব সনদ, প্রত্যয়নপত্রসহ নানা সেবা বন্ধ থাকায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

ইউনিয়নের কয়েকজন বাসিন্দা জানান, প্রতিদিন বিভিন্ন প্রয়োজনে ইউনিয়ন পরিষদে মানুষের যাতায়াত থাকে। কিন্তু বিদ্যুৎ না থাকায় অধিকাংশ সেবাই এখন অচল। এতে সাধারণ মানুষের সময় ও অর্থ দুটোই অপচয় হচ্ছে। দ্রুত সমস্যার সমাধান না হলে জনদুর্ভোগ আরও বাড়বে বলে আশঙ্কা করছেন তারা।

এ বিষয়ে বেলগাছি ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মিয়েরাজ হোসেন বলেন, “বকেয়া বিদ্যুৎবিল পরিশোধ করে দ্রুত বিদ্যুৎ সংযোগ পুনঃস্থাপনের চেষ্টা চলছে। আশা করছি খুব শিগগিরই বিল পরিশোধ করে বিদ্যুৎ সংযোগ চালুর ব্যবস্থা করা সম্ভব হবে।”

এদিকে ইউনিয়নবাসীর দাবি, জনসেবার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান হিসেবে ইউনিয়ন পরিষদের কার্যক্রম সচল রাখতে দ্রুত বিদ্যুৎ সংযোগ পুনঃস্থাপন এবং ভবিষ্যতে এমন পরিস্থিতি এড়াতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা হোক। তাদের মতে, প্রশাসনিক অব্যবস্থাপনার দায় যেন সাধারণ মানুষের ভোগান্তির কারণ না হয়।