২৫ বছরের রক্তক্ষয়ী দ্বন্দ্বের অবসান, পরদিনই বোমা সদৃশ বস্তু উদ্ধার: কেশবপুরে চাঞ্চল্য
- আপডেট সময় : ০৬:৩০:০১ অপরাহ্ন, রবিবার, ২১ জুন ২০২৬ ৩৬ বার পড়া হয়েছে
দীর্ঘ ২৫ বছরের রক্তক্ষয়ী বিরোধ, অসংখ্য সংঘাত, মামলা-মোকদ্দমা ও আতঙ্কের অধ্যায়ের অবসান ঘটিয়ে শান্তির পথে ফিরেছে চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গা উপজেলার হারদী ইউনিয়নের কেশবপুর গ্রাম। তবে বিরোধ নিরসনের আনন্দের রেশ কাটতে না কাটতেই পরদিন সকালে গ্রামের একটি বাড়ি থেকে বোমা সদৃশ বস্তু উদ্ধার হওয়ায় এলাকায় নতুন করে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, কেশবপুর গ্রামের সালাম গ্রুপ ও মনসুর আলী চেংগিস খান গ্রুপের মধ্যে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে প্রায় আড়াই দশক ধরে বিরোধ চলে আসছিল। এ বিরোধকে কেন্দ্র করে আলমডাঙ্গা থানা ও আদালতে প্রায় ২০ থেকে ২২টি মামলা চলমান রয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে সংঘর্ষ, উত্তেজনা ও সামাজিক বিভক্তির কারণে গ্রামের স্বাভাবিক পরিবেশ ব্যাহত হয়।
চুয়াডাঙ্গা জেলা পুলিশের উদ্যোগে অবশেষে সেই দীর্ঘদিনের বিরোধের অবসান ঘটে। জেলা পুলিশ সুপারের দিকনির্দেশনায় এবং অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) মোস্তাফিজুর রহমানের নেতৃত্বে শনিবার (২০ জুন) আলমডাঙ্গা থানায় উভয় পক্ষকে আলোচনায় বসানো হয়। দীর্ঘ আলোচনা, মতবিনিময় ও সমঝোতার মাধ্যমে দুই পক্ষ শান্তিপূর্ণ সমাধানে পৌঁছায়।
বহু বছরের শত্রুতা ভুলে একে অপরের সঙ্গে করমর্দন করেন উভয় পক্ষের নেতৃবৃন্দ। আবেগঘন সেই মুহূর্তে উপস্থিত অনেকের চোখে আনন্দাশ্রু দেখা যায়। সমঝোতা শেষে মিষ্টি বিতরণ করা হয় এবং গ্রামবাসী উৎসবমুখর পরিবেশে শান্তি প্রতিষ্ঠার এই উদ্যোগকে স্বাগত জানান। গ্রামের প্রবীণরা বলেন, “যে বিরোধে আমাদের কয়েকটি প্রজন্ম কেটে গেছে, আজ তার অবসান হলো। এটি আমাদের গ্রামের জন্য একটি ঐতিহাসিক দিন।”
তবে শান্তি প্রতিষ্ঠার মাত্র কয়েক ঘণ্টা পরই রবিবার (২১ জুন) সকালে কেশবপুর গ্রামের আলী হোসেনের বাড়ির পাশ থেকে একটি বোমা সদৃশ বস্তু উদ্ধার করা হয়। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে বস্তুটি উদ্ধার করে এবং বিষয়টি খতিয়ে দেখতে তদন্ত শুরু করে। স্থানীয়দের ধারণা, দীর্ঘদিনের বিরোধের রেশ কিংবা কোনো অসাধু মহলের অপতৎপরতার অংশ হিসেবে বস্তুটি সেখানে রাখা হয়ে থাকতে পারে। তবে পুলিশ তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত এ বিষয়ে নিশ্চিত কোনো মন্তব্য করেনি।
গ্রামবাসীর প্রত্যাশা, বহু কষ্টে অর্জিত এই শান্তিপূর্ণ পরিবেশ যেন কোনোভাবেই নষ্ট না হয়। তারা প্রশাসনের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশের পাশাপাশি এলাকার স্থায়ী শান্তি ও সম্প্রীতি বজায় রাখতে সকলের সহযোগিতা কামনা করেছেন। কেশবপুরের এই ঘটনা আবারও প্রমাণ করলো—আলোচনা, আন্তরিকতা ও সদিচ্ছা থাকলে বছরের পর বছর জমে থাকা দ্বন্দ্বেরও অবসান সম্ভব। তবে সেই শান্তি ধরে রাখতে প্রয়োজন সকল পক্ষের দায়িত্বশীল আচরণ এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অব্যাহত নজরদারি।



















