৪ মাত্রার ভূমিকম্পে কাঁপল ঢাকা ও আশপাশের এলাকা
- আপডেট সময় : ০২:০৯:০৭ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৩ জুন ২০২৬ ২৪ বার পড়া হয়েছে
ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে সোমবার রাত ৯টা ২৯ মিনিটের দিকে মৃদু ভূমিকম্প অনুভূত হয়েছে। ভূমিকম্পটি রাজধানী ও আশপাশের এলাকায় ব্যাপক আতঙ্কের সৃষ্টি করলেও তাৎক্ষণিকভাবে কোনো হতাহত বা বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি।
বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, রিখটার স্কেলে ভূমিকম্পটির মাত্রা ছিল ৪। এর উৎপত্তিস্থল ছিল নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ, যা রাজধানীর আগারগাঁও ভূকম্পন পর্যবেক্ষণ কেন্দ্র থেকে প্রায় ১৬ কিলোমিটার পূর্বে অবস্থিত। অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা ইউএসজিএস ভূমিকম্পটির মাত্রা ৪ দশমিক ৪ এবং গভীরতা ১০ কিলোমিটার বলে জানিয়েছে।
আরও পড়ুন, https://www.dailyamaderpatrika.com/2026/06/23/আওয়ামী-লীগের-কর্মকাণ্ডে/
ভূমিকম্প পর্যবেক্ষণ ও গবেষণাকেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা রুবাইয়াৎ কবির জানিয়েছেন, রাত ৯টা ২৮ মিনিট ৫৪ সেকেন্ডে ভূমিকম্পটি আঘাত হানে। এর কেন্দ্রস্থল ছিল ঢাকার অদূরে রূপগঞ্জ এলাকা। ভূমিকম্পের কম্পন ঢাকা, নারায়ণগঞ্জ, গাজীপুর, নরসিংদীসহ আশপাশের বিভিন্ন এলাকায় স্পষ্টভাবে অনুভূত হয়। অনেকেই ঘরবাড়ি ও অফিস থেকে বের হয়ে খোলা স্থানে অবস্থান নেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও মুহূর্তের মধ্যে ভূমিকম্প নিয়ে আলোচনা শুরু হয়।
আরও পড়ুন, https://www.dailyamaderpatrika.com/2026/06/23/বকেয়া-বিদ্যুৎবিল-পরিশোধ/
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, নারায়ণগঞ্জ ও রূপগঞ্জ এলাকা দেশের অন্যতম ভূমিকম্প-সংবেদনশীল অঞ্চলের মধ্যে পড়ে। কারণ এ অঞ্চলের নিচ দিয়ে মধুপুর ফল্ট, শীতলক্ষ্যা নদীসংলগ্ন কয়েকটি গোপন ফল্ট এবং ইন্দো-বার্মা টেকটোনিক প্লেটের প্রভাব বিস্তৃত রয়েছে।
বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের পুরকৌশল বিভাগের অধ্যাপক মেহেদি আহমেদ আনসারীর মতে, এ ধরনের ছোট বা মাঝারি মাত্রার ভূমিকম্পকে হালকাভাবে দেখার সুযোগ নেই। তিনি বলেন, ঢাকার আশপাশে সক্রিয় স্থানীয় ফল্টগুলোর বিষয়ে আরও গবেষণা প্রয়োজন। একইসঙ্গে রাজধানীর জন্য পূর্ণাঙ্গ ভূমিকম্প ঝুঁকি মানচিত্র ও মাইক্রোজোনেশন কার্যক্রম দ্রুত সম্পন্ন করা জরুরি।
আরও পড়ুন, https://www.dailyamaderpatrika.com/2026/06/23/চোরাই-পথে-সার-পাচারকালে-আ/
বিশেষজ্ঞদের মতে, এবার বড় ধরনের ক্ষতি না হলেও ঢাকার খুব কাছাকাছি ভূমিকম্পের উৎপত্তি ভবিষ্যতের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ সতর্কবার্তা। তাই ভবন নির্মাণ বিধিমালা কঠোরভাবে বাস্তবায়ন, দুর্যোগ প্রস্তুতি জোরদার এবং জনগণের সচেতনতা বৃদ্ধির ওপর গুরুত্ব দেওয়ার সময় এসেছে।



















