রেমিট্যান্সের টাকায় গড়া স্বপ্নভঙ্গ: পরকীয়ার টানে প্রবাসী স্বামীকে ডিভোর্স
- আপডেট সময় : ১১:৫৪:১৯ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৪ জুন ২০২৬ ১৬০ বার পড়া হয়েছে
বিদেশের মাটিতে সীমাহীন কষ্ট, ঘাম আর একাকীত্বের বিনিময়ে গড়া স্বপ্নের সংসার—শেষ পর্যন্ত সেই সংসারই যেন কাল হয়ে দাঁড়িয়েছে মালয়েশিয়া প্রবাসী হেলাল উদ্দিনের জীবনে। যে মানুষটি পরিবারের সুখের আশায় বছরের পর বছর প্রবাসে হাড়ভাঙা পরিশ্রম করেছেন, আজ সেই মানুষই নিজের গড়া ঘরে ঠাঁই হারিয়ে প্রাণনাশের আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন।
চুয়াডাঙ্গার জীবননগর উপজেলার রায়পুর এলাকার বাসিন্দা হেলাল উদ্দিন দীর্ঘদিন ধরে মালয়েশিয়ায় কর্মরত। পরিবারের আর্থিক সচ্ছলতা ফেরাতে ২০২৩ সালে আবারও পাড়ি জমান প্রবাসে। বিদেশে কঠোর পরিশ্রম করে উপার্জিত প্রায় সব অর্থই পাঠাতেন স্ত্রী আছিয়া খাতুনের কাছে। সেই টাকায় নির্মাণ করা হয় আধুনিক বাড়ি, চলে বিলাসী জীবনযাপন। শুধু তাই নয়, হেলালের দাবি অনুযায়ী, প্রায় ৭ লাখ টাকাও স্ত্রীর কাছে গচ্ছিত রাখা হয়েছিল।
আরও পড়ুন, https://www.dailyamaderpatrika.com/2026/06/04/দামে-ধস-লোকসানের-শঙ্কায়/
কিন্তু প্রবাসে থাকা স্বামীর অজান্তেই অন্য এক প্রবাসীর সঙ্গে সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েন আছিয়া খাতুন। অভিযোগ উঠেছে, মালয়েশিয়াপ্রবাসী টোকন নামের এক যুবকের সঙ্গে পরকীয়া সম্পর্কে জড়িয়ে ধীরে ধীরে স্বামীর সঙ্গে দূরত্ব তৈরি করেন তিনি। স্থানীয় সূত্র ও পারিবারিকভাবে জানা যায়, দীর্ঘ দুই যুগের সংসার ভেঙে সম্প্রতি হেলাল উদ্দিনকে ডিভোর্স নোটিশ পাঠান আছিয়া। আরও চাঞ্চল্যকর বিষয় হলো, নিজের দুই সন্তানকেও ছেড়ে দিয়েছেন তিনি। পরিবারের দাবি, পরকীয়া সম্পর্কের টানেই এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছেন আছিয়া খাতুন।
আরও পড়ুন, https://www.dailyamaderpatrika.com/2026/06/04/দামে-ধস-লোকসানের-শঙ্কায়/
ঘটনার এখানেই শেষ নয়। হেলাল উদ্দিনের অভিযোগ, আছিয়ার কথিত প্রেমিক টোকন বর্তমানে মালয়েশিয়ায় অবস্থান করে নিয়মিত ফোনে তাকে হত্যার হুমকি দিচ্ছেন। দেশে ফিরলে তাকে “শেষ করে দেওয়া হবে” বলেও ভয়ভীতি দেখানো হচ্ছে। এ সংক্রান্ত অডিও রেকর্ড ও মুঠোফোনের বার্তা সাংবাদিকদের হাতেও এসেছে বলে জানা গেছে।ভুক্তভোগী হেলাল উদ্দিন কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, “আমি নিজের সুখের জন্য কিছু করিনি। সন্তানদের ভবিষ্যৎ আর স্ত্রীর স্বপ্ন পূরণের জন্য সবকিছু বিলিয়ে দিয়েছি। আজ আমার টাকায় গড়া বাড়িতে আমারই জায়গা নেই। উল্টো আমাকে মেরে ফেলার হুমকি দেওয়া হচ্ছে।”
তিনি আরও বলেন, “বিদেশে থেকেও শুধু পরিবারের কথা ভেবেছি। অথচ আজ আমি নিঃস্ব। আমার সন্তানদের ভবিষ্যৎ নিয়ে আমি খুবই চিন্তিত।”
এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়দের অনেকেই বলছেন, একজন রেমিট্যান্স যোদ্ধার সঙ্গে এমন আচরণ অত্যন্ত হৃদয়বিদারক। তারা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
আরও পড়ুন, https://www.dailyamaderpatrika.com/2026/06/04/যৌতুকের-দাবিতে-অন্তঃসত্ত/
বর্তমানে প্রবাসে থাকা হেলাল উদ্দিন এবং তার পরিবারের সদস্যরা চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। স্বপ্নভঙ্গের এই নির্মম গল্প যেন আবারও প্রশ্ন তুলে দিয়েছে—প্রবাসীদের ত্যাগ আর ভালোবাসার মূল্য কি সত্যিই এভাবেই হারিয়ে যাচ্ছে?


















