বিচারাঙ্গনের উজ্জ্বল নক্ষত্র: খন্দকার মোঃ আছাদুজ্জামান
- আপডেট সময় : ০৫:২৭:৪৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ২২ জুন ২০২৬ ২২ বার পড়া হয়েছে
সততা, ন্যায়পরায়ণতা ও গৌরবময় জীবনগাথা
খন্দকার মো. আছাদুজ্জামান বাংলাদেশের বিচারাঙ্গনের একজন অভিজ্ঞ, দক্ষ ও সুনামধন্য বিচারক। দীর্ঘ তিন দশকেরও বেশি সময় তিনি দেশের বিচার ব্যবস্থায় সততা, নিষ্ঠা ও ন্যায়পরায়ণতার সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেছেন। বিচারপ্রার্থীদের কাছে তিনি ছিলেন ন্যায়বিচারের আস্থার প্রতীক এবং সহকর্মীদের কাছে একজন মানবিক, প্রজ্ঞাবান ও আদর্শ বিচারক হিসেবে সুপরিচিত। তাঁর দীর্ঘ ৩৪ বছরের গৌরবময় কর্মজীবন বাংলাদেশের বিচার ইতিহাসে একটি অনুকরণীয় অধ্যায় হিসেবে স্মরণীয় হয়ে থাকবে।
জন্ম ও পারিবারিক ঐতিহ্য
১৯৬৫ সালের ৯ ফেব্রুয়ারি গোপালগঞ্জ জেলার মুকসুদপুর উপজেলার খান্দারপাড়া গ্রামের এক সম্ভ্রান্ত ও ঐতিহ্যবাহী পীর বংশে তাঁর জন্ম। তাঁর পিতা হাজী নওয়াব আলী খন্দকার এবং মাতা শুকুরন নেছা। শৈশব থেকেই তিনি ধর্মীয় মূল্যবোধ, নৈতিকতা ও মানবিকতার পরিবেশে বেড়ে ওঠেন, যা পরবর্তীতে তাঁর ব্যক্তিত্ব গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
আরও পড়ুন, https://www.dailyamaderpatrika.com/2026/06/22/২৩-জুন-সারাদেশে-বিক্ষোভ-স/
তাঁর বংশধারা একটি ঐতিহ্যবাহী ও আধ্যাত্মিকভাবে সম্মানিত খন্দকার পরিবারের অংশ। এই বংশধারা হযরত আব্দুল্লাহ খান মজলিস ওরফে মজলিস আউলিয়া (রহঃ)-এর আধ্যাত্মিক ধারার সঙ্গে সম্পৃক্ত। হযরত আব্দুল্লাহ খান মজলিস ওরফে মজলিস আউলিয়া (রহঃ) ছিলেন নবীজি হযরত মুহাম্মদ (স.) এর জামাতা হযরত আলী (রা.) এর বংশধর হযরত শাহ আলী বাগদাদী (রহ.) এর পুত্র হযরত শাহ উসমান (রহ.) এর শ্বশুর ।
ঐতিহাসিক সূত্রে জানা যায়, হযরত আব্দুল্লাহ খান মজলিস ওরফে মজলিস আউলিয়া (রহ.)- বাগদাদ থেকে হিজরত করে ফরিদপুর জেলার ভাঙ্গা উপজেলার পাথরাইল-দিঘিরপাড় এলাকায় ইসলাম প্রচার করেন এবং সেখানে একটি ঐতিহাসিক মসজিদ নির্মাণ করেন, যা আজও “মজলিস আউলিয়ার মসজিদ” নামে পরিচিত। বর্তমানে মসজিদটি প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের তত্ত্বাবধানে সংরক্ষিত রয়েছে।
আরও পড়ুন, https://www.dailyamaderpatrika.com/2026/06/22/ডেপুটি-অ্যাটর্নি-জেনারেল/
ঐতিহাসিক বর্ণনা অনুযায়ী, খান্দারপাড়া গ্রামের ঐতিহ্যবাহী লস্কর পরিবারের নেতৃস্থানীয় ব্যক্তিবর্গ, হযরত আব্দুল্লাহ খান মজলিস ওরফে মজলিস আউলিয়া (রহ.) এর উত্তরসূরী,পাথরাইল-দিঘিরপাড়ের তদানীন্তন গদীনশীন পীর সাহেবের মুরিদ ছিলেন। তাঁদের আরজের পরি-প্রেক্ষিতে পীর সাহেব মুরিদানদের একজনের কন্যার সাথে পীরজাদা মোহাম্মদ জাহা খন্দকারের বিয়ে দিয়ে তাঁকে তাঁর খলিফা হিসেবে খান্দারপাড়ায় প্রেরণ করেন।
উক্ত রুপে পীরজাদা মোহাম্মদ জাহা খন্দকার (রহ.) লস্করদের ‘আরজের কুটুম’ হিসেবে খান্দারপাড়ায় আগমন করে এ অঞ্চলে ইসলাম প্রচার, আধ্যাত্মিক শিক্ষা বিস্তার ও মানবকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ডে আত্মনিয়োগ করেন এবং একজন কামেল পীর হিসেবে ব্যাপক শ্রদ্ধা ও মর্যাদা অর্জন করেন।
তাঁর মাজার শরীফ বর্তমানে খান্দারপাড়ায় খন্দকারদের আদি বাড়িতে অবস্থিত। তবে যথাযথ সংরক্ষণের অভাবে এই আধ্যাত্মিক ঐতিহ্য আজ হারিয়ে যাওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছে। অবশ্য পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, তাঁর স্মৃতি সংরক্ষণের জন্য পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। খন্দকার মোঃ আছাদুজ্জামান পীর মোহাম্মদ জাহা খন্দকার (রহ.) এর ৭ম প্রজন্মের বংশধর। মধ্যবর্তী প্রজন্মের বংশধরগন হচ্ছেন যথাক্রমে তুরফান উল্লাহ খন্দকার, হারআন উল্লাহ খন্দকার, হাতেম আলী খন্দকার, আলতাফ হোসেন খন্দকার ও হাজী নওয়াব আলী খন্দকার ।
আরও পড়ুন, https://www.dailyamaderpatrika.com/2026/06/21/মেসির-ছবি-এঁকে-বিশ্বকাপ-উ/
পীর মোহাম্মদ জাহা খন্দকার (রহ.), তুরফান উল্লাহ খন্দকার, হারআন উল্লাহ খন্দকার ও হাতেম আলী খন্দকার প্রত্যেকেই খারিজা তালুকের মালিক তথা স্বাধীন তালুকদার ছিলেন। তাঁদের তালুকের নাম ছিল “খারিজা তালুক মোহাম্মদ জাহা খন্দকার” এবং উহার তৌজি নম্বর ছিল ২৩৭৬। তালুকটি তেলিহাটি আমিরাবাদ পরগনার অন্তর্ভুক্ত ছিল। সে সময় তাঁদের পরিবার সামাজিক নেতৃত্ব, বিচারিক প্রভাব ও প্রশাসনিক কাঠামোতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করত।
শিক্ষাজীবন
খন্দকার মো. আছাদুজ্জামান ১৯৮০ সালে খান্দারপাড়া ইউনিয়ন ইন্দুহাটি হলধর উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এসএসসি এবং ১৯৮২ সালে রামদিয়া এস. কে. কলেজ থেকে এইচএসসি পাস করেন।
পরবর্তীতে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগে ভর্তি হয়ে ১৯৮৬ সালে এলএল.বি (অনার্স) এবং ১৯৮৭ সালে এলএল.এম ডিগ্রি অর্জন করেন। শিক্ষাজীবন থেকেই তিনি মেধাবী, সৎ ও নীতিবান ব্যক্তি হিসেবে পরিচিত ছিলেন।
কর্মজীবন ও বিচারাঙ্গনে অবদান
তিনি ১০ম বিসিএসের মাধ্যমে ১৯৯১ সালে বাংলাদেশ জুডিসিয়াল সার্ভিসে সহকারী জজ পদে যোগদান করে কর্মজীবন শুরু করেন।
কর্মজীবনের শুরুতে তিনি ফরিদপুর, শরীয়তপুর, বরগুনা, বরিশাল, ঝালকাঠি ও হবিগঞ্জে সহকারী জজ / সিনিয়র সহকারী জজ হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তাঁর সততা, ন্যায়নিষ্ঠা ও বিচক্ষণ রায় তাঁকে দ্রুতই একজন নির্ভরযোগ্য বিচারক হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করে।
পরবর্তীতে তিনি যুগ্ম জেলা ও দায়রা জজ এবং অতিরিক্ত চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবে বরিশাল ও ফরিদপুরে দ্বায়িত্ব পালন করেন। এছাড়া, অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ হিসেবে যশোরে এবং চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবে খুলনা ও নওগাঁয় জেলায় গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেন।
আরও পড়ুন, https://www.dailyamaderpatrika.com/2026/06/22/বাংলাদেশ-পুলিশের-ক্যাডেট/
কর্ম জীবনের শেষভাগে তিনি ২০১৫ থেকে ২০২০ সাল পর্যন্ত কুষ্টিয়া, ঠাকুরগাঁও ও বরগুনায় জেলা ও দায়রা জজ হিসেবে এবং ২০২০ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত বরগুনা, পাবনা, রাজশাহী ও ঢাকায় সিনিয়র জেলা ও দায়রা জজ হিসেবে কর্মরত ছিলেন। তাঁর শেষ কর্মস্থল ছিল ঢাকা মহানগর দায়রা জজ কোর্ট। মহানগর দায়রা জজ হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ ও আলোচিত মামলাগুলোর বিচার পরিচালনায় তিনি পেশাদারিত্ব, নিরপেক্ষতা ও বিচারিক প্রজ্ঞার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেন। বিচারপ্রার্থী, আইনজীবী ও সহকর্মীদের কাছে তিনি ছিলেন ন্যায়বিচারের প্রতীক।
সামাজিক ও মানবিক অবদান
২০১৪ সালে তিনি “খন্দকার ফাউন্ডেশন”নামে একটি অরাজনৈতিক ও অলাভজনক সমাজসেবা প্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠা করেন। এই ফাউন্ডেশনের মাধ্যমে তিনি দরিদ্র শিক্ষার্থী, অসহায় পরিবার, বিধবা ও স্বামী-পরিত্যক্ত নারীদের নিয়মিত আর্থিক সহায়তা প্রদান করেন। সমাজের সুবিধাবঞ্চিত মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে মানবসেবায় নিজেকে নিয়োজিত রাখেন।
সংগঠনিক কর্মকান্ড
পেশাগত দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি তিনি বিচারকদের সংগঠন বাংলাদেশ জুডিসিয়াল সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশনের সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। এছাড়া, তিনি একাধিকবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এলএলবি অনার্স ডিগ্রিধারীদের সংগঠন বাংলাদেশ আইন সমিতির নির্বাহী কমিটির সদস্য হিসেবেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।
এলাকার উন্নয়নে অবদান
নিজ গ্রাম খান্দারপাড়ার সার্বিক উন্নয়নে তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। তাঁর উদ্যোগ ও প্রচেষ্টায় গ্রামের প্রায় ৫ কিলোমিটার রাস্তা এলজিইডি কর্তৃক পাকা করা হয়, যা এলাকার যোগাযোগ ব্যবস্থাকে আধুনিক ও সহজতর করেছে।
উন্নয়নকৃত রাস্তাগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে —
১। মধ্যপাড়া ছনভিটা → আব্দুর রাজ্জাক খন্দকার বাড়ি → খান্দারপাড়া মধ্যপাড়া জামে মসজিদ → হাজী নওয়াব আলী খন্দকার বাড়ি পর্যন্ত রাস্তা;
২। গরুহাটা ব্রিজ → মতিয়ার রহমান (আবু) লস্কর বাড়ি → খান্দারপাড়া মধ্যপাড়া জামে মসজিদ পর্যন্ত রাস্তা; ও
৩। বাথানডাঙ্গা রোড → কবির লস্কর বাড়ি → কাজী ভিটা → নিজাম লস্কর বাড়ি → বাদ্যকারপাড়া পর্যন্ত রাস্তা।
উক্ত রাস্তাগুলো পাকাকরণের ফলে খান্দারপাড়া গ্রামে বর্তমানে কোনো কাঁচা রাস্তা নেই বললেই চলে। প্রসঙ্গত, উপরের ২নং রাস্তাটি উন্নয়নের ক্ষেত্রে মরহুম মজিবুর রহমান লস্কর (ধলা মিয়া) এর কন্যা মুনিরা ইসলাম এর অবদান রয়েছে। তাঁর প্রচেষ্টায় রাস্তাটি এইচবিবি এর মাধ্যমে উন্নয়নের জন্য স্কীম পাশ হয়। পরবর্তী পর্যায়ে খন্দকার মোঃ আছাদুজ্জামানের প্রচেষ্টায় এইচবিবি এর পরিবর্তে রাস্তাটি পাকা হয়।
আরও পড়ুন, https://www.dailyamaderpatrika.com/2026/06/22/6438/
এছাড়া, লস্করদের প্রতিষ্ঠিত খান্দারপাড়া কবরস্থান ( হানিফ লস্করদের বাড়ি সংলগ্ন) উন্নয়নের ক্ষেত্রেও তার অবদান রয়েছে। তাঁর প্রচেষ্টায় এলজিইডি কর্তৃক উক্ত কবরস্থান এর গেট ও প্রাচীর নির্মিত হয়েছে।
গ্রামের রাস্তা ঘাট উন্নয়নের পাশাপাশি আশেপাশের এলাকার রাস্তা ঘাট উন্নয়নেও তাঁর অবদান রয়েছে। তাঁর উদ্যোগে শিমুলতলা – ভ্রমর বালিয়া রোডের শিমুলতলা হতে গোপ্তরগাতী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় পর্যন্ত অংশ এবং রিশাতলা – খান্দারপাড়া রোডের কেন্দুয়ার মোড় হতে ইন্দুহাটি হলধর উচ্চ বিদ্যালয় ও কেন্দুয়া কাজীপাড়া জামে মসজিদ পর্যন্ত রাস্তা পাকা হয়। এছাড়া, তাঁর উদ্যোগে সিংগিমারা খালের উপর ফকিরহাট খোলা ব্রিজ নির্মীত হয়।
ধর্মীয় কর্মকাণ্ড
তিনি বিভিন্ন জেলায় কর্মরত থাকাকালে কোর্ট মসজিদ কমিটির সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন এবং ঐ সব মসজিদের উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। এছাড়া, নিজ গ্রামের মধ্যপাড়া জামে মসজিদের উন্নয়নে তাঁর অবদান বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। ধর্ম মন্ত্রণালয়, জেলা পরিষদসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও ব্যক্তিবর্গের কাছ থেকে অনুদান সংগ্রহ করে তিনি মসজিদের উন্নয়নে ব্যয় করেন। তাঁর প্রচেষ্টায় এলজিইডির একাধিক প্রকল্পের মাধ্যমে মসজিদটির উন্নয়ন সাধিত হয় ।
আরও পড়ুন, https://www.dailyamaderpatrika.com/2026/06/22/মাদারীপুরে-চলাচলের-পথ-বন/
বর্তমানে তিনি উক্ত মসজিদ কমিটির প্রধান উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন এবং তাঁর উদ্যোগ ও প্রচেষ্টায় মসজিদে উন্নয়ন কাজ অব্যাহত রয়েছে। তাছাড়া, তাঁর প্রচেষ্টায় ইসলামিক ফাউন্ডেশনের অধীনে মসজিদে একটি পাঠাগার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে এবং সহজ কুর আন শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে।
মানুষের পাশে একজন অভিভাবক
খন্দকার মো. আছাদুজ্জামান শুধু একজন বিচারকই নন, তিনি তাঁর গ্রামের মানুষের একজন অভিভাবক হিসেবেও পরিচিত। গ্রামের যেকোনো সামাজিক, পারিবারিক বা ব্যক্তিগত সমস্যায় তিনি আন্তরিকভাবে সহযোগিতা ও পরামর্শ প্রদান করেন। সুখ-দুঃখে মানুষের পাশে দাঁড়ানো, সামাজিক সম্প্রীতি বজায় রাখা এবং মানবিক মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠায় তিনি নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন।
তাঁর প্রজ্ঞা, অভিজ্ঞতা, ন্যায়পরায়ণতা ও মানবিক আচরণের কারণে গ্রামের সর্বস্তরের মানুষের কাছে তিনি অত্যন্ত শ্রদ্ধেয় ও আস্থাভাজন ব্যক্তি হিসেবে পরিচিত।
পারিবারিক জীবন
ব্যক্তিগত জীবনে তিনি একজন স্নেহশীল পিতা ও আদর্শ অভিভাবক। তিনি চার সন্তানের জনক। তাঁর জ্যেষ্ঠ পুত্র খন্দকার আসাদুল্লাহিল গালিব ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় হতে বিবিএ (অনার্স) ও এমবিএ সম্পন্ন করে ৩৮তম বিসিএসের মাধ্যমে সিভিল সার্ভিসে যোগদান করেন এবং বর্তমানে ডেপুটি কমিশনার (ট্যাক্স) হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। জমজ কন্যা খন্দকার সাফা বিনতে আসাদ ও খন্দকার মারওয়া বিনতে আসাদ উভয়ে বর্তমানে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে বিবিএ( অনার্স ) অধ্যয়নরত।
আরও পড়ুন, https://www.dailyamaderpatrika.com/2026/06/22/নজরুল-বিশ্ববিদ্যালয়ে-গা/
কনিষ্ঠ পুত্র খন্দকার নাজমুস সাকিব ঢাকা সিটি কলেজের ২০২৬ সালের এইচএসসি পরীক্ষার্থী। তাঁর পরিবার শিক্ষা, শৃঙ্খলা, নৈতিকতা ও মানবিক মূল্যবোধে সমৃদ্ধ একটি আদর্শ পরিবার হিসেবে সুপরিচিত।
ব্যক্তিত্ব ও মূল্যবোধ
খন্দকার মো. আছাদুজ্জামান অত্যন্ত সাদাসিধে, বিনয়ী ও ন্যায়পরায়ণ ব্যক্তি। সততা, মানবিকতা ও ন্যায়বোধকে তিনি জীবনের মূল আদর্শ হিসেবে ধারণ করেছেন। কর্মজীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে তিনি নিষ্ঠা, সততা ও দায়িত্ববোধের উজ্জ্বল পরিচয় দিয়েছেন।
অবসর জীবন
দীর্ঘ ৩৪ বছরের গৌরবময় বিচারিক জীবনের সমাপ্তি ঘটিয়ে তিনি ২০২৪ সালে অবসর গ্রহণ করেন। তাঁর জীবন, কর্ম, ন্যায়নিষ্ঠতা, আধ্যাত্মিক ঐতিহ্য ও মানবিক অবদান ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য অনুপ্রেরণার উৎস হয়ে থাকবে। বিচারাঙ্গন, সমাজসেবা ও মানবিক মূল্যবোধে তাঁর অবদান তাঁকে বাংলাদেশের বিচার ইতিহাসে একজন উজ্জ্বল নক্ষত্র হিসেবে চিরস্মরণীয় করে রাখবে।
























