ঢাকা ১১:১৬ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২২ জুন ২০২৬, ৮ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষ:
তিস্তার ভয়াবহ ভাঙনে হুমকিতে মহিপুর সেতু, ঝুঁকিতে রংপুর-কাকিনা সড়ক আলমডাঙ্গায় মাদকসেবনের দায়ে দুই যুবকের কারাদণ্ড তামিলনাড়ুর কারখানায় গ্যাস লিক! মৃত অন্তত ৭, আহত ৬৭ দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত ৬৩৩ পরিবারের মুখে স্বস্তির হাসি: আলমডাঙ্গায় নগদ অর্থ ও খাদ্যশস্য বিতরণ মাদারগঞ্জে জাতীয় ফল মেলা-২০২৬ অনুষ্ঠিত ইউপি চেয়ারম্যানের কিশোরগ্যাং কর্তৃক হামলার শিকার চ্যানেল ওয়ান’র রিপোর্টার অপু রংপুর নগরজুড়ে ঝুলন্ত অবৈধ তারের জঞ্জাল, নানা ঝুঁকিসহ ভয়ংকর দুর্ঘটনার আশংকা নান্দাইলে ইউপি নির্বাচনকে সামনে রেখে চেয়ারম্যান প্রার্থী আলহাজ্ব ওয়ালীউল্লাহর মতবিনিময় সভা রায়গঞ্জে সোনাখাড়া ইউনিয়নে টিআর-কাবিটা-কাবিখা প্রকল্পে অনিয়মের অভিযোগ  ময়নাগুড়িতে দাঁড়িয়ে থাকা ট্রাকে সজোরে ধাক্কা বাসের ! ভয়াবহ দুর্ঘটনায় মৃত অন্তত ৫

দারুস সুন্নাত সিদ্দীকিয়া সিনিয়র ফাজিলে ১১ বছরে ৪৮ লাখ টাকার অনিয়ম: সাবেক ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ সাময়িক বরখাস্ত

বশিরুল আলম, আলমডাঙ্গা (চুয়াডাঙ্গা):
  • আপডেট সময় : ১২:৩৬:২৪ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৫ মার্চ ২০২৬ ৮৪ বার পড়া হয়েছে

সাবেক ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ সাময়িক বরখাস্ত

আজকের জার্নাল অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

দীর্ঘ ১১ বছরের আয়-ব্যয়ের অভ্যন্তরীণ অডিটে চাঞ্চল্যকর অনিয়মের চিত্র উঠে এসেছে দর্শনার ঐতিহ্যবাহী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান দর্শনা দারুস সুন্নাত সিদ্দীকিয়া (ডিএস) সিনিয়র ফাজিল মাদ্রাসা-এ। অডিট প্রতিবেদনে প্রায় ৪৭ লাখ ৬১ হাজার ৯০০ টাকা আত্মসাতের অভিযোগে সাবেক ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মো. আরিফুজ্জামান আরিফকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। একই সঙ্গে তার বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র নিশ্চিত করেছে।

মাদ্রাসা সূত্রে জানা যায়, ঢাকার একটি স্বনামধন্য অডিট ফার্মের প্রতিনিধি, অভিজ্ঞ হিসাব বিশেষজ্ঞ ও গভর্নিং বডির সদস্যদের সমন্বয়ে গঠিত কমিটি দীর্ঘ সময় ধরে প্রতিষ্ঠানের আর্থিক নথিপত্র পর্যালোচনা করে। অডিট চলাকালে দেখা যায়, বছরের পর বছর ক্যাশবুক, লেজার, ব্যাংক স্টেটমেন্টসহ গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্র যথাযথভাবে সংরক্ষণ করা হয়নি।

অডিট রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়, ২০১৪ থেকে ২০২২ সাল পর্যন্ত সময়ে মাদ্রাসার মালিকানাধীন মার্কেটের দোকানঘর ভাড়াটিয়াদের কাছ থেকে অগ্রিম বাবদ আদায়কৃত ৮৬ লাখ ৭২ হাজার ৬৫০ টাকার মধ্যে ৪৭ লাখ ৬১ হাজার ৯০০ টাকার কোনো বৈধ বিল-ভাউচার বা ব্যাংকে জমার প্রমাণ পাওয়া যায়নি। অডিট কমিটির মতে, উক্ত অর্থ অভিযুক্ত শিক্ষকের নিকট রয়ে গেছে বলে প্রতীয়মান হয়। প্রতিবেদনে আরও উঠে এসেছে শিক্ষক-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা পরিশোধে পে-রোল স্বাক্ষর ও রেভিনিউ স্ট্যাম্পের অনুপস্থিতি, হিসাবের ঘাটতি এবং ভর্তি ও রেজিস্ট্রেশন ফি বাবদ আদায়কৃত অর্থের স্বচ্ছ হিসাব না থাকার বিষয়টি। এসব অনিয়ম প্রতিষ্ঠানের আর্থিক শৃঙ্খলা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন তুলেছে।

পর্যালোচনা কমিটির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি পাওয়ার পরও অভিযুক্ত শিক্ষক নিয়মিত ক্লাস গ্রহণ করেননি, হাজিরা সংক্রান্ত শৃঙ্খলা ভঙ্গ করেছেন এবং চলমান অডিট কার্যক্রমে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করেননি। বিশ্ববিদ্যালয় প্রবিধান অনুযায়ী ব্যবস্থা ইসলামী আরবি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রবিধান-২০২৩ (সংশোধিত) এর ধারা ১৫ অনুযায়ী গভর্নিং বডির সিদ্ধান্তে গত ৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ থেকে মো. আরিফুজ্জামান আরিফকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়। বরখাস্তকালীন সময়ে তিনি বিধি মোতাবেক ভাতা প্রাপ্য হবেন বলে জানানো হয়েছে। অভিযুক্ত শিক্ষক বলেন, “সাময়িক বরখাস্তের বিষয়টি আমি শুনেছি, তবে এ সংক্রান্ত কোনো লিখিত চিঠি এখনো হাতে পাইনি।”

বর্তমান ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মো. শফিউদ্দিন জানান, অডিট আপত্তির ভিত্তিতে কারণ দর্শানোর নোটিশ ও সাময়িক বরখাস্তের আদেশ সংশ্লিষ্ট শিক্ষক ও দপ্তরগুলোতে পাঠানো হয়েছে। ফৌজদারি মামলার বিষয়টি বর্তমানে প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। দর্শনার ঐতিহ্যবাহী এই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে ঘিরে এমন অভিযোগে অভিভাবক ও সচেতন মহলে উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে। তাদের মতে, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে আর্থিক অনিয়মের ঘটনা অত্যন্ত দুঃখজনক। দ্রুত ও স্বচ্ছ তদন্তের মাধ্যমে দোষীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ এবং শিক্ষাঙ্গনে সুশাসন ও শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনার দাবি জানিয়েছেন তারা। শিক্ষাব্যবস্থার মানোন্নয়ন ও আর্থিক স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর পদক্ষেপ এখন সময়ের দাবি।

নিউজটি শেয়ার করুন

ট্যাগস :

দারুস সুন্নাত সিদ্দীকিয়া সিনিয়র ফাজিলে ১১ বছরে ৪৮ লাখ টাকার অনিয়ম: সাবেক ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ সাময়িক বরখাস্ত

আপডেট সময় : ১২:৩৬:২৪ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৫ মার্চ ২০২৬

দীর্ঘ ১১ বছরের আয়-ব্যয়ের অভ্যন্তরীণ অডিটে চাঞ্চল্যকর অনিয়মের চিত্র উঠে এসেছে দর্শনার ঐতিহ্যবাহী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান দর্শনা দারুস সুন্নাত সিদ্দীকিয়া (ডিএস) সিনিয়র ফাজিল মাদ্রাসা-এ। অডিট প্রতিবেদনে প্রায় ৪৭ লাখ ৬১ হাজার ৯০০ টাকা আত্মসাতের অভিযোগে সাবেক ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মো. আরিফুজ্জামান আরিফকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। একই সঙ্গে তার বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র নিশ্চিত করেছে।

মাদ্রাসা সূত্রে জানা যায়, ঢাকার একটি স্বনামধন্য অডিট ফার্মের প্রতিনিধি, অভিজ্ঞ হিসাব বিশেষজ্ঞ ও গভর্নিং বডির সদস্যদের সমন্বয়ে গঠিত কমিটি দীর্ঘ সময় ধরে প্রতিষ্ঠানের আর্থিক নথিপত্র পর্যালোচনা করে। অডিট চলাকালে দেখা যায়, বছরের পর বছর ক্যাশবুক, লেজার, ব্যাংক স্টেটমেন্টসহ গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্র যথাযথভাবে সংরক্ষণ করা হয়নি।

অডিট রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়, ২০১৪ থেকে ২০২২ সাল পর্যন্ত সময়ে মাদ্রাসার মালিকানাধীন মার্কেটের দোকানঘর ভাড়াটিয়াদের কাছ থেকে অগ্রিম বাবদ আদায়কৃত ৮৬ লাখ ৭২ হাজার ৬৫০ টাকার মধ্যে ৪৭ লাখ ৬১ হাজার ৯০০ টাকার কোনো বৈধ বিল-ভাউচার বা ব্যাংকে জমার প্রমাণ পাওয়া যায়নি। অডিট কমিটির মতে, উক্ত অর্থ অভিযুক্ত শিক্ষকের নিকট রয়ে গেছে বলে প্রতীয়মান হয়। প্রতিবেদনে আরও উঠে এসেছে শিক্ষক-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা পরিশোধে পে-রোল স্বাক্ষর ও রেভিনিউ স্ট্যাম্পের অনুপস্থিতি, হিসাবের ঘাটতি এবং ভর্তি ও রেজিস্ট্রেশন ফি বাবদ আদায়কৃত অর্থের স্বচ্ছ হিসাব না থাকার বিষয়টি। এসব অনিয়ম প্রতিষ্ঠানের আর্থিক শৃঙ্খলা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন তুলেছে।

পর্যালোচনা কমিটির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি পাওয়ার পরও অভিযুক্ত শিক্ষক নিয়মিত ক্লাস গ্রহণ করেননি, হাজিরা সংক্রান্ত শৃঙ্খলা ভঙ্গ করেছেন এবং চলমান অডিট কার্যক্রমে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করেননি। বিশ্ববিদ্যালয় প্রবিধান অনুযায়ী ব্যবস্থা ইসলামী আরবি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রবিধান-২০২৩ (সংশোধিত) এর ধারা ১৫ অনুযায়ী গভর্নিং বডির সিদ্ধান্তে গত ৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ থেকে মো. আরিফুজ্জামান আরিফকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়। বরখাস্তকালীন সময়ে তিনি বিধি মোতাবেক ভাতা প্রাপ্য হবেন বলে জানানো হয়েছে। অভিযুক্ত শিক্ষক বলেন, “সাময়িক বরখাস্তের বিষয়টি আমি শুনেছি, তবে এ সংক্রান্ত কোনো লিখিত চিঠি এখনো হাতে পাইনি।”

বর্তমান ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মো. শফিউদ্দিন জানান, অডিট আপত্তির ভিত্তিতে কারণ দর্শানোর নোটিশ ও সাময়িক বরখাস্তের আদেশ সংশ্লিষ্ট শিক্ষক ও দপ্তরগুলোতে পাঠানো হয়েছে। ফৌজদারি মামলার বিষয়টি বর্তমানে প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। দর্শনার ঐতিহ্যবাহী এই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে ঘিরে এমন অভিযোগে অভিভাবক ও সচেতন মহলে উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে। তাদের মতে, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে আর্থিক অনিয়মের ঘটনা অত্যন্ত দুঃখজনক। দ্রুত ও স্বচ্ছ তদন্তের মাধ্যমে দোষীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ এবং শিক্ষাঙ্গনে সুশাসন ও শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনার দাবি জানিয়েছেন তারা। শিক্ষাব্যবস্থার মানোন্নয়ন ও আর্থিক স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর পদক্ষেপ এখন সময়ের দাবি।