ঢাকা ০১:০১ অপরাহ্ন, সোমবার, ২২ জুন ২০২৬, ৮ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষ:
মালয়েশিয়ায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সম্মানে আনোয়ার ইব্রাহিমের মধ্যাহ্নভোজ শূন্য পদ ৪ লাখ ৬৮ হাজারের বেশি: সংসদে জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমের সঙ্গে বৈঠকে তারেক রহমান মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার দ্রুত খুলতে আনোয়ার ইব্রাহিমকে অনুরোধ প্রধানমন্ত্রীর ওয়াসিম হত্যা মামলায় হাছান মাহমুদসহ ২২ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের শুনানি আজ তিস্তার ভয়াবহ ভাঙনে হুমকিতে মহিপুর সেতু, ঝুঁকিতে রংপুর-কাকিনা সড়ক আলমডাঙ্গায় মাদকসেবনের দায়ে দুই যুবকের কারাদণ্ড তামিলনাড়ুর কারখানায় গ্যাস লিক! মৃত অন্তত ৭, আহত ৬৭ দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত ৬৩৩ পরিবারের মুখে স্বস্তির হাসি: আলমডাঙ্গায় নগদ অর্থ ও খাদ্যশস্য বিতরণ মাদারগঞ্জে জাতীয় ফল মেলা-২০২৬ অনুষ্ঠিত

ব্যাংকনির্ভরই রয়ে গেছে অর্থনীতি, বিকল্প আর্থিক খাতের অবদান মাত্র ৪.৬%

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • আপডেট সময় : ১২:৪৩:৩০ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৬ এপ্রিল ২০২৬ ৫৯ বার পড়া হয়েছে
আজকের জার্নাল অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

দেশের আর্থিক খাত এখনো মূলত ব্যাংকনির্ভর—এমন চিত্রই উঠে এসেছে বাংলাদেশ ব্যাংক-এর সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, দেশে মোট ৭৬৫টি নন-ব্যাংক আর্থিক প্রতিষ্ঠান, বিমা কোম্পানি, ব্রোকারেজ হাউস, মিউচুয়াল ফান্ড ও মোবাইল আর্থিক সেবা প্রতিষ্ঠান থাকলেও, পুরো আর্থিক খাতের সম্পদের মাত্র ৪.৬ শতাংশ তাদের দখলে। বিপরীতে ব্যাংকগুলোর দখলে রয়েছে ৭৮.১ শতাংশ সম্পদ।

২০২৫ সালের ডিসেম্বর শেষে এসব আর্থিক সংস্থার মোট সম্পদ দাঁড়িয়েছে প্রায় ২ লাখ ২ হাজার কোটি টাকা, যা আগের বছরের তুলনায় ১৩.৪৫ শতাংশ বেশি। তবে এই প্রবৃদ্ধি বাস্তব খাতে বিনিয়োগ বা শিল্পে অর্থায়নে উল্লেখযোগ্য প্রভাব ফেলতে পারেনি। বিশ্লেষণে দেখা গেছে, এসব প্রতিষ্ঠানের প্রায় ৮৫ শতাংশ সম্পদ ব্যাংক, সরকার বা অন্যান্য আর্থিক খাতে বিনিয়োগ করা হচ্ছে। ফলে সরাসরি ব্যবসা বা শিল্প খাতে ঋণ দেওয়ার পরিবর্তে অর্থ একই ব্যবস্থার ভেতরেই ঘুরপাক খাচ্ছে।

আরও পড়ুন, https://www.dailyamaderpatrika.com/2026/04/25/জ্বালানি-সংকট-ও-লোডশেডিং/

আরও উদ্বেগজনক বিষয় হলো ঋণ বিতরণ কমে যাওয়া—বার্ষিক হিসেবে ৬.৭ শতাংশ এবং ত্রৈমাসিক হিসেবে ৪.৩৫ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে। এতে বিকল্প অর্থায়ন উৎস হিসেবে এই খাতের কার্যকারিতা কমে যাচ্ছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, একটি কার্যকর বন্ডবাজার না থাকাই বড় বাধা। উন্নত অর্থনীতিতে বন্ডবাজার দীর্ঘমেয়াদি অর্থায়নের বড় উৎস হলেও বাংলাদেশে এটি প্রায় নিষ্ক্রিয়।

এদিকে, আর্থিক খাতের মধ্যে জীবন বীমা কোম্পানির সম্পদ সর্বোচ্চ (প্রায় ২৫%), আর মোবাইল আর্থিক সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানের অংশ প্রায় ৯.৬%, যা ডিজিটাল লেনদেন বৃদ্ধির ইঙ্গিত দেয়। তবে এসব খাত এখনো মূলত লেনদেন ও সঞ্চয়ে সীমাবদ্ধ, শিল্পে দীর্ঘমেয়াদি অর্থায়নে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারছে না।

নিউজটি শেয়ার করুন

ব্যাংকনির্ভরই রয়ে গেছে অর্থনীতি, বিকল্প আর্থিক খাতের অবদান মাত্র ৪.৬%

আপডেট সময় : ১২:৪৩:৩০ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৬ এপ্রিল ২০২৬

দেশের আর্থিক খাত এখনো মূলত ব্যাংকনির্ভর—এমন চিত্রই উঠে এসেছে বাংলাদেশ ব্যাংক-এর সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, দেশে মোট ৭৬৫টি নন-ব্যাংক আর্থিক প্রতিষ্ঠান, বিমা কোম্পানি, ব্রোকারেজ হাউস, মিউচুয়াল ফান্ড ও মোবাইল আর্থিক সেবা প্রতিষ্ঠান থাকলেও, পুরো আর্থিক খাতের সম্পদের মাত্র ৪.৬ শতাংশ তাদের দখলে। বিপরীতে ব্যাংকগুলোর দখলে রয়েছে ৭৮.১ শতাংশ সম্পদ।

২০২৫ সালের ডিসেম্বর শেষে এসব আর্থিক সংস্থার মোট সম্পদ দাঁড়িয়েছে প্রায় ২ লাখ ২ হাজার কোটি টাকা, যা আগের বছরের তুলনায় ১৩.৪৫ শতাংশ বেশি। তবে এই প্রবৃদ্ধি বাস্তব খাতে বিনিয়োগ বা শিল্পে অর্থায়নে উল্লেখযোগ্য প্রভাব ফেলতে পারেনি। বিশ্লেষণে দেখা গেছে, এসব প্রতিষ্ঠানের প্রায় ৮৫ শতাংশ সম্পদ ব্যাংক, সরকার বা অন্যান্য আর্থিক খাতে বিনিয়োগ করা হচ্ছে। ফলে সরাসরি ব্যবসা বা শিল্প খাতে ঋণ দেওয়ার পরিবর্তে অর্থ একই ব্যবস্থার ভেতরেই ঘুরপাক খাচ্ছে।

আরও পড়ুন, https://www.dailyamaderpatrika.com/2026/04/25/জ্বালানি-সংকট-ও-লোডশেডিং/

আরও উদ্বেগজনক বিষয় হলো ঋণ বিতরণ কমে যাওয়া—বার্ষিক হিসেবে ৬.৭ শতাংশ এবং ত্রৈমাসিক হিসেবে ৪.৩৫ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে। এতে বিকল্প অর্থায়ন উৎস হিসেবে এই খাতের কার্যকারিতা কমে যাচ্ছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, একটি কার্যকর বন্ডবাজার না থাকাই বড় বাধা। উন্নত অর্থনীতিতে বন্ডবাজার দীর্ঘমেয়াদি অর্থায়নের বড় উৎস হলেও বাংলাদেশে এটি প্রায় নিষ্ক্রিয়।

এদিকে, আর্থিক খাতের মধ্যে জীবন বীমা কোম্পানির সম্পদ সর্বোচ্চ (প্রায় ২৫%), আর মোবাইল আর্থিক সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানের অংশ প্রায় ৯.৬%, যা ডিজিটাল লেনদেন বৃদ্ধির ইঙ্গিত দেয়। তবে এসব খাত এখনো মূলত লেনদেন ও সঞ্চয়ে সীমাবদ্ধ, শিল্পে দীর্ঘমেয়াদি অর্থায়নে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারছে না।