কয়েকটি দুর্বল ব্যাংকের বড় ক্ষতিতে লোকসানে পুরো ব্যাংকিং খাত
- আপডেট সময় : ০১:১৬:০৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৮ জুন ২০২৬ ৫৩ বার পড়া হয়েছে
দেশের ব্যাংকিং খাতে দেখা দিয়েছে বড় ধরনের আর্থিক সংকট। ২০২৫ সালের হিসাব অনুযায়ী, কয়েকটি দুর্বল ব্যাংকের বিপুল লোকসানের কারণে পুরো ব্যাংক খাত ১ লাখ ৩৬ হাজার ৬৬৬ কোটি টাকা নিট লোকসানে পড়েছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রকাশিত ফিন্যান্সিয়াল স্ট্যাবিলিটি ও মাসিক প্রতিবেদনের তথ্য বলছে, ২০২২ সালে ব্যাংক খাতের নিট মুনাফা ছিল ১৪ হাজার ২৩০ কোটি টাকা। ২০২৩ সালে তা বেড়ে দাঁড়ায় ১৪ হাজার ৮৪০ কোটি টাকায়। তবে ২০২৪ সালে মুনাফা কমে ১২ হাজার ১৫৮ কোটি টাকায় নেমে আসে। আর ২০২৫ সালে এসে পুরো খাত লোকসানে চলে যায়।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ব্যাংক খাত সংস্কার কর্মসূচির অংশ হিসেবে নয়টি ব্যাংকের সম্পদের গুণগত মান যাচাই বা এ-কিউ-আর পরিচালনা করা হয়েছে। আন্তর্জাতিক নিরীক্ষা প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে করা এই মূল্যায়নে কয়েকটি ব্যাংকের প্রকৃত আর্থিক অবস্থার চিত্র সামনে এসেছে।
আরও পড়ুন, https://www.dailyamaderpatrika.com/2026/06/16/বাজারে-স্বস্তি-কমেছে-আদা/
সবচেয়ে বেশি ৬৬ হাজার ৩৮৬ কোটি টাকা লোকসান করেছে First Security Islami Bank। এরপর রয়েছে Social Islami Bank, যার লোকসান ৩১ হাজার কোটি টাকা। এছাড়া EXIM Bank, Global Islami Bank এবং Union Bank-ও বড় অঙ্কের ক্ষতির মুখে পড়েছে।
অন্যদিকে, কিছু ব্যাংক ভালো মুনাফা করেছে। এর মধ্যে শীর্ষে রয়েছে Standard Chartered Bank, যার নিট মুনাফা ৩ হাজার ২২০ কোটি টাকা। দেশীয় ব্যাংকগুলোর মধ্যে BRAC Bank, City Bank এবং Pubali Bank উল্লেখযোগ্য মুনাফা অর্জন করেছে।
আরও পড়ুন, https://www.dailyamaderpatrika.com/2026/06/16/বাংলাদেশের-বৈদেশিক-মুদ্র/
প্রতিবেদনে আরও উদ্বেগজনক তথ্য উঠে এসেছে ঋণখাত নিয়ে। দেশের ব্যাংকগুলোর মোট ঋণের প্রায় ৫৯ শতাংশ বর্তমানে ‘ডিস্ট্রেসড’ বা ঝুঁকিপূর্ণ ঋণ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। এ ধরনের ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১০ লাখ ৮৭ হাজার কোটি টাকা। এর মধ্যে রয়েছে খেলাপি ঋণ, অবলোপন করা ঋণ এবং আদালতের আদেশে স্থগিত থাকা ঋণ। বিশেষজ্ঞদের মতে, ব্যাংক খাতের স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে দ্রুত সংস্কার, সুশাসন নিশ্চিতকরণ এবং ঝুঁকিপূর্ণ ঋণ নিয়ন্ত্রণে কার্যকর পদক্ষেপ প্রয়োজন।

























